ভাঙড় কলেজে অশান্তি, ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ, গ্রেফতার ৪

ভাঙড় কলেজে SFI-ISF ও ABVP-কে ঘিরে উত্তেজনার পর চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছাত্রীদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও সায়ন্তন বসুকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কলেজে সোমবারের অশান্তির রেশ গড়াল মঙ্গলবারেও। এবিভিপি (ABVP)-র ছাত্রীদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও গালিগালাজের অভিযোগ এবং কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসুকে (Sayantan Basu) ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে ভাঙড় থানার পুলিশ। ধৃতদের মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের একাংশের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে দুই ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম শাহরুখ আকতার আলি মোল্লা এবং আসলাম হাবিব। তাঁদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, ভাঙড় থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে একটি মামলা রুজু করে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের নাম রবিউল মিস্ত্রি এবং রবিউল জামান শেখ। অবৈধ জমায়েত, বেআইনিভাবে কলেজে প্রবেশ এবং পরিচালন সমিতির সভাপতিকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। ভাঙড় কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার ক্যাম্পাসে যান বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। তাঁকে ঘিরে কলেজের গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এসএফআই (SFI) এবং আইএসএফ (ISF)-সমর্থিত পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে স্থানীয় কাউকে না বসিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সায়ন্তন বসুর উপস্থিতির প্রতিবাদে গেট আটকে বিক্ষোভ চলার সময় বাইরে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবিভিপি-র সদস্যরা। ফলে দুই পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ গাড়ির ভিতরেই অপেক্ষা করতে হয় সায়ন্তনকে। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি কলেজে ঢুকে পরিচালন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ চত্বরে পুলিশ ঢোকে। বিক্ষোভকারীদের সরাতে লাঠিচার্জের অভিযোগও ওঠে। যদিও পুলিশি লাঠিচার্জের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ঘটনার পর ভাঙড় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-ও নামানো হয়।

অশান্তির আঁচ পরে পৌঁছয় ভাঙড় থানাতেও। আটক হওয়া ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতে এসএফআই ও আইএসএফ-সমর্থিত পড়ুয়াদের একাংশ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপরই চারজনকে গ্রেফতারের খবর সামনে আসে।

ভাঙড় কলেজে অবশ্য এটাই প্রথম সাম্প্রতিক সংঘাত নয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বরও এবিভিপি এবং আইএসএফ-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল বলে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে।

এ দিনের ঘটনার পর কলেজের সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া চারজনকে আদালতে তোলা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগগুলি তদন্তাধীন; আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন