বাংলাদেশে ফের অশান্তি! বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ, ঢাকায় বাড়ল নিরাপত্তা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার। DMP-এর অভিযানে ৫২৭ গ্রেফতার, ৫৫টি মামলা এবং ২০০-র বেশি চেকপোস্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত রাজধানীর একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর এসেছে। মিরপুর, বাড্ডা, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, কমলাপুর, শাহবাগ-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে একাধিক ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকাজুড়ে ২০০-র বেশি চেকপোস্ট বসিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (DMP)।

১৯ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৫১৫ জনকে গ্রেফতার এবং ৪৭টি মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছিল DMP। তবে ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২৭ এবং মামলা হয়েছে ৫৫টি। অর্থাৎ ধরপাকড়ের অভিযান এখনও চলছে।

ঢাকার একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ

শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর আসতে শুরু করে। মালিবাগে সোহারাওয়ার্দী পরিবহনের কাউন্টারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর পর যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ধানমণ্ডি, মতিঝিল, কমলাপুর, মহাখালী, শাহবাগ এবং বাড্ডা-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি ঘটনায় পথচারী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কথিত মূল পরিকল্পনাকারীও রয়েছেন বলে DMP জানিয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

বাসে আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক

বিস্ফোরণের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মিরপুর, বাড্ডা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এবং মাতুয়াইল এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।

মাতুয়াইলে ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড অ্যান্ড মাদার হেলথের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগানো হয়। খবর পেয়ে দমকলের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

৫১৫ থেকে গ্রেফতার বেড়ে ৫২৭

১৯ সেপ্টেম্বর DMP জানিয়েছিল, আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৫১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিরপুরে সর্বাধিক ১২০ জন, তেজগাঁওয়ে ৯২ এবং মতিঝিলে ৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ওয়ারি, উত্তরা, গুলশান, লালবাগ ও রমনা এলাকাতেও গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ছুরি, মাদক এবং বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ উদ্ধার হয়েছে। দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছিল।

এর পর ২০ সেপ্টেম্বরের নতুন হিসাবে DMP জানিয়েছে, আরও ৫২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন অভিযানে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, গানপাউডার, পেট্রল এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

২০০-র বেশি চেকপোস্ট, বাড়ল নজরদারি

পরপর বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে ২০০-র বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও গাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে।

DMP জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আলাদা করে মামলা ও তদন্ত চলছে। CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কী বলছে সরকার?

ঘটনাগুলির সঙ্গে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগ রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিটি বাসে আগুন বা বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটির সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় CCTV ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অন্য দিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। দলের সমর্থকদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও ঝটিকা মিছিল নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের ধরপাকড় ও নজরদারি বাড়লেও এই ঘটনাগুলির পিছনে কারা রয়েছে এবং কোনও সংগঠিত রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন