নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বড় চাঞ্চল্য। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এই কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করেছিল দল। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রামে নিজের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করেন।
এর ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে মমতা শিবিরের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং কংগ্রেসকে সমর্থন—পরপর ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই এবার কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারের খবর সামনে এল।
কংগ্রেস এর আগে নন্দীগ্রাম আসনের জন্য মিলন প্রধানকে প্রার্থী করেছিল। দলীয় সূত্রে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে প্রচার শুরু হয়েছিল।
শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর শিবির নিজস্ব প্রার্থী না রেখে কংগ্রেসকে সমর্থন করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহত্তর স্বার্থে এবং ‘সিস্টার পার্টি’ কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যে পুরনো মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেটির ধারা, মামলার নম্বর এবং গ্রেফতারির সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি বা আদালত-নথিভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনও অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক হবে না।
নন্দীগ্রামে এবার বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ, কংগ্রেসের মিলন প্রধান, বামেদের প্রার্থী-সহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তৃণমূলের ঋতব্রতপন্থী শিবিরও মহম্মদ এহতেশামুল হককে প্রার্থী করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারের খবর নন্দীগ্রামের নির্বাচনী প্রচারে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রকৃতি, আদালতে তাঁর পরবর্তী অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না, এখন সেদিকেই নজর।



