মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে ভয়াবহ ঘটনার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠল ১৪ বছরের এক নাবালিকার বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া পুরসভা এলাকায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় নাবালিকার সঙ্গে থাকা ১২ বছরের আর এক কিশোরীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল ওই ১৪ বছরের নাবালিকা। শনিবার সন্ধ্যায় দূর সম্পর্কের এক বোন তাকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ডাকে। দু’জনে বেরিয়ে কিছুটা যাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে পূর্বপরিচিত দুই যুবকের দেখা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, এরপর দুই নাবালিকাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বিয়ার খাওয়ানো হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে ১২ বছরের কিশোরী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু ১৪ বছরের নাবালিকাকে ওই দুই যুবক সঙ্গে করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
রাত পর্যন্ত মেয়েটি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর মামার বাড়ির সদস্যরা। এরপর তাঁরা হাবড়া থানায় যোগাযোগ করেন। নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় ডায়েরিও করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে নাবালিকার সঙ্গে থাকা ১২ বছরের কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় তল্লাশি। পরে স্থানীয় একটি শিবমন্দিরের কাছে নির্জন এলাকা থেকে ১৪ বছরের নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
উদ্ধারের সময় নাবালিকার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল বলে জানা গিয়েছে। সে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় ছিল। দ্রুত তাকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে তাঁদের বয়স আনুমানিক ২৩-২৪ বছর। দু’জনেই বিবাহিত বলে জানা গিয়েছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে তাঁদের স্ত্রী বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন না বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অতীতে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। নতুন ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।
পুরো ঘটনার পিছনে ঠিক কী হয়েছিল, নাবালিকাকে কোথায় এবং কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে। নাবালিকার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।



