নজরবন্দি ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত TET-না-পাস শিক্ষকদের নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, ২০১১ সালের আগে শিক্ষকতায় যোগ দেওয়া কর্মরত শিক্ষকদের TET নেওয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন (West Bengal School Service Commission) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (West Bengal Board of Primary Education) কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যে প্রায় ৯০ হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা TET-এ উত্তীর্ণ নন বলে আগে রাজ্য শিক্ষা দফতরের সমীক্ষা এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন হিসাবও রয়েছে। ফলে TET-এর আয়োজন কীভাবে এবং কত দ্রুত করা হবে, সেটিই এখন শিক্ষকমহলের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
মূল বিষয়টির সূত্র সুপ্রিম কোর্টের ২০২৫ সালের রায়ে। সেখানে RTE Act, 2009-এর আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে TET উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল করা হয়েছিল। যাঁদের অবসরের আগে পাঁচ বছরের বেশি সময় বাকি ছিল, তাঁদের TET যোগ্যতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৯ মে সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ আবেদনগুলি খারিজ করলেও শিক্ষকদের হাতে আরও সময় দিয়েছে। আদালত TET পাশের সময়সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করেছে। ফলে যোগ্য কর্মরত শিক্ষকদের ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে TET উত্তীর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত, সম্ভব হলে বছরে দু’বার TET আয়োজনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে SSC এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দ্রুত দফতরকে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত TET-না-পাস শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা TET চালু হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রশ্ন—কাজে যোগ দেওয়ার সময় যে যোগ্যতা প্রয়োজন ছিল না, এত বছর চাকরির পরে সেই পরীক্ষা এখন কীভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে?
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: পাঁচ বছর বা তার কম সময়ের মধ্যে যাঁদের অবসর নেওয়ার কথা, তাঁদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ওই TET-শর্ত প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, পাঁচ বছরের বেশি চাকরি বাকি থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ২০২৮ সালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
এই রায় ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ এবং আইনগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, TET যখন তাঁদের নিয়োগের সময় আবশ্যিক ছিল না, তখন বহু বছর চাকরি করার পরে নতুন করে পরীক্ষায় বসার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়া সমস্যাজনক। রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলির আন্দোলনেও এই বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশ এখন বহাল। ফলে বিষয়টি আর শুধুমাত্র আইনি বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; রাজ্যকে বাস্তব প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। TET-এর সম্ভাব্য আয়োজন, পরীক্ষার্থীদের পরিধি এবং সময়সূচি সম্পর্কে স্কুল শিক্ষা দফতর কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সাম্প্রতিক নোটিসগুলিতেও TET আয়োজনের একাধিক কার্যক্রমের নজির রয়েছে। তবে ২০১১ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আলাদা TET-এর তারিখ এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।



