ঈশানের ২৭০, পূর্বাঞ্চলের ৭০৮! দলীপ ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের সামনে রানের পাহাড়

দলীপ ট্রফির ফাইনালে ঈশান কিশনের ২৭০ রানের দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ৭০৮ রান করল পূর্বাঞ্চল। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে খেতাব জয়ের পথে ঈশানরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের উপর কার্যত রানের পাহাড় চাপিয়ে দিল পূর্বাঞ্চল। চেন্নাইয়ের মাঠে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রান তুলে নিয়েছে ঈশান কিশনের নেতৃত্বাধীন দল। অধিনায়ক নিজেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে খেলেছেন দুরন্ত ২৭০ রানের ইনিংস। ফলে পাঁচ দিনের ম্যাচের ফল না হলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকেই দলীপ ট্রফি জয়ের দৌড়ে বড় সুবিধা পেয়ে গেল পূর্বাঞ্চল।

চেন্নাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক পিচে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে পূর্বাঞ্চলের ব্যাটাররা। রবিবার ১১১ রানে অপরাজিত থাকা ঈশান সোমবার নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেন। ২৫০ রান করার পর চেন্নাইয়ের প্রচণ্ড গরমে অস্বস্তি বোধ করায় কিছু সময়ের জন্য রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে আবার ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৩৩৪ বলে ২৭০ রান করেন।

ঈশানের ইনিংসে ছিল ৩০টি চার এবং ৭টি ছয়। এই দ্বিশতরানের মাধ্যমে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে অনন্য তালিকায় ঢুকে পড়লেন তিনি। ১৯৯৬ সালে সাবা করিমের দ্বিশতরানের প্রায় ৩০ বছর পর পূর্বাঞ্চলের হয়ে আবার কোনও ব্যাটার ২০০-র গণ্ডি পেরোলেন। অরুণলাল অবশ্য পূর্বাঞ্চলের হয়ে দু’বার দ্বিশতরান করেছিলেন।

ঈশানের পাশাপাশি শতরান করেছেন কুমার কুশাগ্রও। ম্যাচের প্রথম দিন থেকে অপরাজিত থাকা কুশাগ্র ১৩২ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছয়ের সাহায্যে ১০১ রান করেন। অনুকূল রায় ৪৫, কৌনাইন কুরেশি ৪০ এবং মহম্মদ শামি ২৮ রান করে পূর্বাঞ্চলের বড় স্কোর গড়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

চেন্নাইয়ের ২২ গজে প্রথম দু’দিনের খেলা থেকেই বোঝা গিয়েছে, ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি যথেষ্ট অনুকূল। পেসারদের জন্য খুব বেশি সাহায্য নেই। তবে ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পিনাররা সামান্য হলেও পিচ থেকে সহায়তা পেতে শুরু করেছেন। সেই পরিস্থিতি পূর্বাঞ্চলের বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ত্রিপুরানা বিজয়। ১৮০ রান খরচ করে তিনি নিয়েছেন চার উইকেট। দিনের শেষ ওভারেই তাঁর শিকার হন ঈশান এবং মুকেশ কুমার। ১৬৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন শ্রেয়স গোপাল। ৮৮ রানে দুই উইকেট পেয়েছেন চামা মিলিন্দ। শেখ রশিদের ঝুলিতে একটি উইকেট এসেছে ৪৬ রান দিয়ে।

মহম্মদ সিরাজও দীর্ঘ সময় বল করলেও সাফল্য পাননি। ২৫ ওভার বল করে ১৪০ রান দিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোনও উইকেট পাননি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের উপর যে চাপ ছিল, তাঁদের পরিসংখ্যানেই তার প্রতিফলন স্পষ্ট।

এখন দক্ষিণাঞ্চলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রথম ইনিংসে পূর্বাঞ্চলের রান টপকানো। দলীপ ট্রফির ফাইনাল পাঁচ দিনে শেষ না হলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। ফলে পূর্বাঞ্চলের ৭০৮ রান ছাপিয়ে যেতে তিলক বর্মার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণাঞ্চলকে করতে হবে অন্তত ৭০৯ রান।

১৬৩ ওভার খেলার পর চেন্নাইয়ের পিচের চরিত্র এবং পূর্বাঞ্চলের তৈরি করা রানের চাপ—দুই দিক থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের কাজ কঠিন। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন ঈশানদের হাতেই। সব মিলিয়ে তৃতীয় দলীপ ট্রফি জয়ের পথে পূর্বাঞ্চল অনেকটাই এগিয়ে গেলেও, শেষ কথা বলবে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটিং।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন