নজরবন্দি ব্যুরো: ‘এত দুর্নীতির পরেও কিছু হবে না, কারণ সেটিং আছে’—বিজেপির সঙ্গে কালীঘাট-তৃণমূলের বোঝাপড়া নিয়ে এবার সরাসরি বিস্ফোরক দাবি করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরে থাকা মদনের মন্তব্য ঘিরে ফের তীব্র হয়েছে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবং ‘বিজেপির সঙ্গে সেটিং’ বিতর্ক।
মদন মিত্রের দাবি, বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’-এর তত্ত্ব পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর কথায়, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঁচিয়ে রাখবে’, কারণ তাঁর মতে, “মমতার থেকে বড় বন্ধু বিজেপির আর কেউ নেই।” এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এর পরেই মদনের আরও বিস্ফোরক মন্তব্য, উপর থেকে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের ছবি তৈরি হলেও রাতে নাকি ‘দোস্তি’ চলে। দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি দেখতে দেখতে তাঁরা ‘টায়ার্ড’ হয়ে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর ক্ষমতায় না থাকলে বিজেপি আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় আসত না।
মদনের কটাক্ষ এখানেই থামেনি। তাঁর দাবি, বিজেপির যদি কোনও ‘চিফ ইলেকশন এজেন্ট’ থেকে থাকে, তাহলে তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এগুলি মদন মিত্রের রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত—এগুলির সমর্থনে কোনও প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে পেশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। পাল্টা কালীঘাট শিবিরের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মদনকে ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
মদন মিত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পিছনে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল—দুই শিবিরের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত তৈরি হয়েছে। মদন মিত্রও কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন।
এর আগে বিদ্রোহী শিবিরকে নিশানা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যাঁদের তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে এলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেবেন। অভিষেকের এই মন্তব্যের পাল্টা ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ থেকে মদন মিত্র দুই ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
সেই মঞ্চ থেকেই মদন অভিষেককে প্রকাশ্যে নিজের ‘ভুল’ ও ‘অন্যায়’ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। ফলে মদন-অভিষেক সংঘাতের সঙ্গে এবার বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’ প্রসঙ্গও জুড়ে গেল। তাঁর নতুন মন্তব্যে তৃণমূলের দুই শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মদন মিত্রের ‘বিজেপির সবচেয়ে বড় বন্ধু মমতা’ মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বক্তব্য। একদিকে কালীঘাট শিবিরের পাল্টা আক্রমণ, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নেতার লাগাতার বিস্ফোরক অভিযোগ—তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এই পর্বে ‘সেটিং তত্ত্ব’ ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।



