‘ঝুট কি গুঞ্জ’, ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধির পরেই রাহুলকে কটাক্ষ মোদীর

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। বিশকেক থেকে ভিডিয়োবার্তায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদের আক্রমণ মোদীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে—জিডিপি বৃদ্ধির পর এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মঙ্গলবার সকালে কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেক থেকে ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেন তিনি। সেখানেই চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদের আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-কেও নিশানা করেন তিনি।

সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন—প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। প্রত্যাশিত ৭.১ শতাংশের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। এই পরিসংখ্যানকেই ভারতের অর্থনীতির শক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে মোদী বলেন, বৃদ্ধির এই হার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিকূল পরিস্থিতির কথাও ভিডিয়োবার্তায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ ও নানা আন্তর্জাতিক সঙ্কটে বিশ্বের একাধিক দেশ সমস্যায় পড়েছে। কোভিড অতিমারির পরও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফেরেনি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। তার মধ্যেও ভারত দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর পরেই দেশের বিরোধীদের একাংশকে নিশানা করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, যখন ভারত ধাপে ধাপে এগোচ্ছে, তখন দেশের কিছু মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়াচ্ছেন। এই প্রসঙ্গেই রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী ‘ঝুট কি গুঞ্জ’—অর্থাৎ মিথ্যার প্রতিধ্বনি—বলে মন্তব্য করেন।

তবে শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। ফের ‘স্বদেশি’ ও আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশীয় পণ্য ও আত্মনির্ভরতার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া গেলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

আত্মনির্ভরতার বার্তা দিতে গিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনটি পরামর্শও দিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, অবসর কাটাতে বিদেশে যাওয়ার বদলে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিদেশে গিয়ে বিয়ের আয়োজন না করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

এর পাশাপাশি প্রয়োজন না থাকলে সোনা না কেনার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য, দেশের মানুষের খরচ যেন দেশের অর্থনীতির মধ্যেই ঘোরে এবং দেশীয় পর্যটন, পরিষেবা ও ব্যবসায় তার সুফল পৌঁছয়।

এ দিকে মোদীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। সরকার এই বৃদ্ধিকে অর্থনীতির শক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বৃদ্ধির পরিসংখ্যানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সাধারণ মানুষের আয় ও মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলিকেও আলোচনায় রাখতে চাইছে। ফলে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ার সম্ভাবনাই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন