‘নাতির নাম তৈমুর, বন্দে মাতরম নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না’, শর্মিলাকে নিশানা শমীকের

বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। নাতি তৈমুর আলি খানের নাম টেনে অভিনেত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আঁচ এবার গিয়ে পড়ল অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)-এর উপর। জাতীয় গানের সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। শর্মিলার নাতি তৈমুর আলি খানের নাম টেনে এনে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা IANS-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর বলেছিলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন এবং একেশ্বরবাদী ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’-র মতো উল্লেখ গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। তাঁর মতে, বৃহত্তর পরিসরে গ্রহণযোগ্যতার কথা ভাবলে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই যথেষ্ট।

শর্মিলার এই বক্তব্যের পরেই বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut) সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তাঁর দাবি, গান ও কবিতায় প্রতীক, রূপক এবং কল্পনার ব্যবহার থাকে।

এবার সেই বিতর্কেই আরও আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল শমীক ভট্টাচার্যের গলায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে শর্মিলা ঠাকুরের নাতি তৈমুর আলি খানের নাম টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিনেত্রীর নিজের পরিবারের নামকরণ এবং ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে তাঁর অবস্থানের মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য রয়েছে।

শমীকের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল শর্মিলার মন্তব্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক তৈমুরের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিজেপি নেতা দাবি করেন, ইতিহাসে তৈমুরের ভারত আক্রমণ এবং অত্যাচারের যে বিবরণ রয়েছে, সেই নামই শর্মিলার নাতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কারণেই তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে শর্মিলার মন্তব্য করা উচিত নয়।

শর্মিলা ঠাকুরের নাতি তৈমুর আলি খান, সইফ আলি খান (Saif Ali Khan) ও করিনা কপূরের (Kareena Kapoor Khan) বড় ছেলে। তাঁর নামকরণ নিয়ে ২০১৬ সালে থেকেই বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ও সামাজিক মাধ্যমে নামটি নিয়ে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা হয়েছিল। করিনা পরে জানিয়েছিলেন, ‘তৈমুর’ শব্দের অর্থ লোহা এবং ছেলের মধ্যে শক্ত মানসিকতা গড়ে উঠুক, সেই ভাবনা থেকেই নামটি পছন্দ করেছিলেন।

তবে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্য তৈমুরের নাম নয়, ‘বন্দে মাতরম’-এর কোন অংশ কী ভাবে পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্ন। ২০২৬ সালে জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথমবারের মতো ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনও হয়েছে।

অন্যদিকে কংগ্রেস দীর্ঘদিনের অবস্থান বজায় রেখে দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের পক্ষেই রয়েছে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিজেপির বক্তব্য, জাতীয় গানের পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া উচিত; কংগ্রেসের যুক্তি, ঐতিহাসিক ভাবে দলের অনুষ্ঠানে প্রথম দুটি স্তবকই ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

ফলে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য এখন আর শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁকে ঘিরে কঙ্গনা রানাওয়াতের পর শমীক ভট্টাচার্যের আক্রমণেও স্পষ্ট, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলতি রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। জাতীয় গান, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশাত্মবোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে আগামী দিনে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন