‘দিদি এমপি-এমএলএ করে দেব বলেছিলেন’, মমতাকে নিয়ে অভিমান প্রকাশ ইন্দ্রাণী হালদারের

তৃণমূলের হয়ে প্রচারের পর রাজনৈতিক পালাবদলে ইন্দ্রাণী হালদারের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংসদ-বিধায়ক হওয়ার প্রসঙ্গ এবং নতুন সরকার নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার (Indrani Haldar)। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) হয়ে একাধিক নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বদলে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ। সেই আবহেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিয়ে নিজের অভিমান, পুরনো সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রচারের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার কারণে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইন্দ্রাণী। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রচারে যাওয়া তাঁর কাছে কোনও রাজনৈতিক পদ বা সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশার বিষয় ছিল না। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অনুরোধ এবং সম্পর্কের কারণেই একাধিকবার প্রচারে গিয়েছিলেন।

ইন্দ্রাণীর কথায়, তিনি যে সব জায়গায় তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন, সেখানে দলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর নিজেরও সংশয় ছিল। তাঁর দাবি, বিনা পারিশ্রমিকে প্রচার করেননি তিনি। যে ভাবে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মাচা অনুষ্ঠানে শিল্পীরা অংশ নেন, প্রচারের ক্ষেত্রেও একই ভাবে গিয়েছিলেন। ফলে পরবর্তীতে তাঁকে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগে আক্রমণ করা হলে তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে চান না তিনি।

অভিনেত্রীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন বলে জানান ইন্দ্রাণী। মিটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ পেলে শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে সেখানে পৌঁছে যেতেন তিনি।

তবে এখানেই তাঁর আক্ষেপ। ইন্দ্রাণীর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের হয়ে এত প্রচার করলেও দলীয় ভাবে তিনি কোনও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। তাঁর বহু জুনিয়র অভিনেত্রী পরবর্তীতে সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে ইন্দ্রাণী বলেন, মমতা চাইলে হয়তো তাঁকেও সাংসদ বা বিধায়ক করতে পারতেন।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দোষারোপ করতে নারাজ অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, মমতা তাঁকে একসময় সাংসদ বা বিধায়ক করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কোনও কারণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। কেন তা হয়নি, সে বিষয়ে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন ইন্দ্রাণী।

শুধু পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর নিজের অবস্থান নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গ্রামের সঙ্গে তাঁর পুরনো যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে যাত্রা অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর বাবা তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলেও জানান ইন্দ্রাণী।

নতুন সরকারের একাধিক নেতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)-এর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। অর্থাৎ নতুন সরকারে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দিকের প্রচারপর্বেই বাংলার রাজনৈতিক হাওয়া বদলের আঁচ পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর কথায়, তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়ে বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল বিজেপির (BJP) পক্ষে হাওয়া তৈরি হয়েছে।

এর পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর ৪ মে সৌজন্যবার্তা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টের পরেও তাঁকে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন, তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার পর কী ভাবে তিনি নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানালেন।

তবে এই ধরনের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইন্দ্রাণী হালদার। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকতে পারে এবং রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করা মানেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অভিমান থাকলেও পুরনো সম্পর্কের জায়গা থেকে তাঁকে দোষ দিতে চান না অভিনেত্রী। একইসঙ্গে নতুন সরকারের প্রতিও সৌজন্য বজায় রাখার অবস্থানই স্পষ্ট করেছেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন