রাজ্যে খেলাধুলার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ দিতে একগুচ্ছ বড় উদ্যোগের পরিকল্পনা করছে সরকার। ‘শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প’-এর আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের জন্য মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের জন্য থাকছে মোটা অঙ্কের পুরস্কার এবং যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত কৃতি ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতার প্রস্তাব।
জাতীয় গেমস বা জাতীয় টুর্নামেন্টে দলগত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যক্তিগত ইভেন্টের ক্ষেত্রে এই সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা হতে পারে ৭৫ লক্ষ টাকা। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রাজ্য স্তরে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য গেমস আয়োজন করলে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ শুধু ক্রীড়াবিদদের পুরস্কার নয়, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরিতেও সরকারি সহায়তার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তও রাখা হয়েছে। অন্তত ১২টি রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অংশগ্রহণ থাকলেই সেই প্রতিযোগিতাকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে। দলগত ইভেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ এবং ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্যের প্রস্তাব রয়েছে।
আঞ্চলিক বা জোনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১২টি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অংশগ্রহণের শর্ত থাকছে। এমন প্রতিযোগিতায় দলগত ইভেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলতে পারে।
রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট মাপকাঠি। অন্তত ১৫টি জেলা অথবা পাঁচটি ডিভিশনের অংশগ্রহণ থাকলে দলগত প্রতিযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ এবং ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জেলা স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপেও আর্থিক সাহায্যের সুযোগ থাকছে। সেখানে অন্তত ছয়টি দলের অংশগ্রহণ থাকলে দলগত প্রতিযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় সাফল্যের জন্য পুরস্কারের অঙ্কও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অলিম্পিক্সে (Olympics) সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা, রুপো জিতলে ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও পদক অনুযায়ী বড় অঙ্কের পুরস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। সোনাজয়ী ক্রীড়াবিদ পাবেন ৫০ লক্ষ টাকা। রুপোর জন্য ৩৭.৫০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) এবং এশিয়ান গেমস (Asian Games)-এ সোনা জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। রুপো ও ব্রোঞ্জের জন্য যথাক্রমে ৩০ লক্ষ এবং ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের জন্য পুরস্কারের অঙ্ক হতে পারে যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা।
জাতীয় গেমস এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পদকজয়ীদের জন্যও থাকছে পুরস্কার। সোনা জিতলে ১০ লক্ষ, রুপো জিতলে ৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জাতীয় স্তর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ পর্যন্ত সাফল্যের জন্য পদকভিত্তিক আর্থিক উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হবে।
শুধু সক্রিয় ক্রীড়াবিদ নয়, অবসরপ্রাপ্ত কৃতি খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ অথবা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের বা রাজ্যের সম্মান বাড়িয়েছেন, এমন যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
এই প্রকল্প কার্যকর হলে যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতে পারেন। দীর্ঘদিন ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখা খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সম্মান জানানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত নীতিতে ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উৎসাহ এবং অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের সামাজিক সুরক্ষা—চারটি দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আর্থিক সহায়তা ও পুরস্কারগুলি বাস্তবে কবে থেকে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করবে।



