ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তে বুধবার তিন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। বিষ্ণুপুর থানায় ডেকে দফায় দফায় তাঁদের জেরা করেন তদন্তকারীরা। মামলার তদন্তকারী আধিকারিক তথা বিষ্ণুপুরের এসডিপিও তাপস সরকারও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গিয়েছে।
সেবাশ্রয় শিবিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে বুধবার তিন চিকিৎসককে থানায় ডাকা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা পরিষেবা কী ভাবে পরিচালিত হত, সেখানে ওই তিন চিকিৎসকের ভূমিকা কী ছিল এবং শিবিরের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলির সঙ্গে চিকিৎসকদের বক্তব্যের মিল রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডায়মন্ড হারবার এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির চালু হয়েছিল আগের সরকারের আমলে। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে যেতেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই শিবিরের পরিষেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে কোনও কোনও রোগী গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। কারও পা বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আবার কারও হাত কেটে ফেলতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার কথা।
শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, সেবাশ্রয় শিবিরে ওষুধ সরবরাহ নিয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় স্বাস্থ্য দফতরের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের অভিযোগ এফআইআরে পরিণত হওয়ায় তদন্ত আরও আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়। জেলা পুলিশ প্রশাসন অভিযোগগুলির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং শিবিরের কার্যকলাপ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্তে তিন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পরবর্তী তদন্তে কীভাবে কাজে লাগে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তরফে এই জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে বুধবারের জেরায় ঠিক কী কী তথ্য উঠে এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের আরও কোনও দিক সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।



