বলিউড অভিনেতা আমির খানকে ঘিরে ফের বিতর্কের আবহ। অযোধ্যায় এক ধর্মীয় নেতার প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে পুরস্কার ঘোষণার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের একাংশ পর্যন্ত তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত অযোধ্যার ‘তপস্বী ছাওনি’-র পীঠাধীশ্বর জগৎগুরু পরমহংস আচার্য-এর একটি বক্তব্যকে ঘিরে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন যে, আমির খানকে হত্যা করতে পারলে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের খরচও বহন করা হবে। এই বক্তব্যের কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং তা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আমির খান সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে করার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ ও সমালোচনা শুরু হয়। কিছু সংগঠন অভিনেতার বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তোলে এবং বিহার-সহ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও হয়। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
পরমহংস আচার্য তাঁর বক্তব্যে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং সেই প্রেক্ষিতেই বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ্যে আসেনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তি বা জনসমক্ষে সহিংসতার আহ্বান বা হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার মতো মন্তব্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এ ধরনের বক্তব্য আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমেও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বহু মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমা এবং জনসমক্ষে দায়িত্বশীল বক্তব্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, জনসমক্ষে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্য কতটা সংযত হওয়া উচিত এবং মতবিরোধ প্রকাশের ক্ষেত্রেও আইন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সীমারেখা মেনে চলা কতটা জরুরি। এখন নজর, এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।



