ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের বড় পরিবর্তন। আইএসএফ-এর ঝুলিতে গেল আরও একটি গ্রাম পঞ্চায়েত। দীর্ঘদিন তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে থাকা জাগুলগাছি পঞ্চায়েতের অধিকাংশ সদস্য দলবদল করে আইএসএফে যোগ দেওয়ায় ভাঙড়ে ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আইএসএফ-এর সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার জাগুলগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৮ জন সদস্যের মধ্যে ২৫ জন আইএসএফে যোগ দেওয়ার পর কার্যত পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নওশাদ সিদ্দিকির দলের হাতে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ভাঙড়ের ক্ষমতার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, জাগুলগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে শনিবারের নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বোর্ড গঠন করে আইএসএফ।
নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তসলিমা বিবি এবং উপপ্রধান হয়েছেন অপর্ণা সর্দার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে তৃণমূলের বোর্ড গঠনের সময়ও এই দুই নেত্রী যথাক্রমে প্রধান ও উপপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভাঙড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, জাগুলগাছির ঘটনা তারই প্রতিফলন। এর আগে শাকশহর, প্রাণগঞ্জ এবং বোদরা গ্রাম পঞ্চায়েতও আইএসএফের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে।
আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পুরনো সমীকরণ ভেঙে পড়ছে বলেই দাবি করছে আইএসএফ। দলের নেতাদের বক্তব্য, মানুষের সমর্থন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আস্থার ভিত্তিতেই একের পর এক পঞ্চায়েত তাদের নিয়ন্ত্রণে আসছে।
অন্যদিকে বিজেপির ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, তৃণমূল থেকে আসা জনপ্রতিনিধিদের দলে নেওয়া হবে না। ফলে রাজনৈতিকভাবে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে থাকা অনেক জনপ্রতিনিধি আইএসএফের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
নতুন বোর্ড গঠনের পর এক পঞ্চায়েত সদস্য জানিয়েছেন, আগামী দিনে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভাঙড়ে জাগুলগাছি পঞ্চায়েতের এই পরিবর্তন শুধু একটি পঞ্চায়েতের হাতবদল নয়, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।



