তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার প্রকাশ্যে আরও তীব্র রূপ নিল। দলীয় ভাঙন এবং বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহ ঘিরে সরব হলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন গোষ্ঠীকে ‘বিজেমূল’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ মানুষের রায়ের প্রতি অবিচার।
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আবহে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের পাশেই রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে জিতে এসে পরে দল ভেঙে অন্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে মহুয়া দাবি করেন, তৃণমূলের নির্বাচনী সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, অধিকাংশ বিধায়ক ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং দলের নেতৃত্ব এবং প্রতীকের জোরেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
সাংসদের প্রশ্ন, যদি বিদ্রোহী বিধায়কদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্নই হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা নতুন প্রতীক বা নতুন দলের হয়ে ভোটে লড়তে পারতেন। নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করে পরে দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেননি।
মহুয়ার অভিযোগ, এই ভাঙনের নেপথ্যে আদর্শগত মতভেদ নয়, বরং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ বেশি কাজ করেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে কিছু নেতা বিরোধী রাজনীতির বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, শাসক ও বিরোধী রাজনীতির সীমারেখা মুছে দিয়ে সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের রাজনীতিকে তিনি গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন মহুয়ার এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ দলের অন্দরে থেকে খুব কম সংখ্যক নেতাই এখনও প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন।
মহুয়া মৈত্রের বার্তা স্পষ্ট— রাজনৈতিক ঝড়ঝাপটার মধ্যেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছেন। আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক লড়াই কোন পথে এগোয়, তা সময়ই বলবে। তবে এই মন্তব্য যে দলীয় সংঘাতকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।



