‘যুবরাজের উপর হামলা সমর্থনযোগ্য নয়’, অভিষেক-কল্যাণ নিগ্রহে সরব বিকাশ ভট্টাচার্য! কি বললেন?

অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় শারীরিক আক্রমণের নিন্দা করলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পরপর দু’দিনে দুই তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চণ্ডিতলায় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার মুখ খুললেন সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কোনওভাবেই শারীরিক আক্রমণকে সমর্থন করা যায় না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বিশেষ করে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর একটি সম্পত্তি মামলায় আইনি প্রতিনিধিত্ব করার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই এবার তিনি রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘যুবরাজ’ বলে উল্লেখ করে বিকাশরঞ্জন বলেন, “এভাবে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর শারীরিক আক্রমণ সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তা কখনও হিংসার পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়।

তবে শুধু হামলার নিন্দা করেই থেমে থাকেননি সিপিএম নেতা। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ফল। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমাতে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, আজ তারই নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

8

বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, বিজেপি এবং তৃণমূল— উভয় দলই কমিউনিস্ট রাজনীতির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পর তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর নিরাপত্তা স্তরে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে সোনারপুরের ঘটনার পর ফের তাঁকে এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাম নেতৃত্বের একাংশ। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-র মন্তব্য, পুরো ঘটনাটির পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। একদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি জনরোষের তত্ত্ব সামনে আনছে। এই পরিস্থিতিতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল রাজনৈতিক বিতর্কে।

পরপর দুই সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার জায়গা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, বিকাশরঞ্জনের বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও সামনে নিয়ে এল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন