লেকটাউনের অন্যতম নজরকাড়া স্থাপনা এখন উদ্বেগের কারণ। লেকটাউন মোড়ে স্থাপিত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিশালাকার মূর্তি দমকা হাওয়ায় দুলতে শুরু করায় এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মঙ্গলবার রাতেই পূর্ত দফতর জরুরি ব্যবস্থা নেয়। মূর্তিটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং আশপাশের অংশ ব্যারিকেড করে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুধু রাস্তা নয়, মূর্তির সামনের মাঠ সংলগ্ন অংশও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। মূর্তির পিছনের দিকের রাস্তা দিয়ে যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়ানো যায়।
বুধবার বিশেষজ্ঞদের একটি দল মূর্তিটি পরিদর্শন করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, প্রয়োজনে মূর্তিটি অক্ষত অবস্থায় খুলে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল, প্রায় ৪৪ ফুট উচ্চতার এই কাঠামোতে বাতাসের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মূর্তির কোমরের নীচের অংশ থেকে মোটা নাইলনের দড়ি দিয়ে চারপাশের শক্ত কাঠামোর সঙ্গে সেটিকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
পূর্ণ দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের মতে, এত বড় মূর্তি অক্ষত অবস্থায় নামানো প্রযুক্তিগতভাবে যথেষ্ট কঠিন। যদি অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে প্রয়োজন হবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে জায়গার অবস্থান। লেকটাউন মোড় অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। নিয়মিত যান চলাচল, আশপাশে জনবসতি এবং সাবওয়ে থাকায় ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে মূর্তি সরানো সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মূর্তি রাখা যেতে পারে। আবার অনেকের মত, ঝুঁকি থাকলে সেটি সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হবে।
এখন বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের দিকেই নজর সবার। কারণ মূর্তি সংরক্ষণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জননিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দিতে চাইছে প্রশাসন।




