সমঝোতার আলোচনা চললেও ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। সোমবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের হরমুজ় প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের পরেই প্রকাশ্যে আসে অভিযানের খবর। ফলে সংঘর্ষবিরতির মাঝেও ফের নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক যে এখনও অত্যন্ত তপ্ত, সোমবার রাতের ঘটনাই তার প্রমাণ। দক্ষিণ ইরানের হরমুজ় সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে মার্কিন সেনা জানায়, ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতেই তারা ‘ডিফেন্সিভ স্ট্রাইক’ চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সিএনএন-কে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাকে রক্ষা করার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পেতে থাকা কিছু নৌকা।
তবে দক্ষিণ ইরানের ঠিক কোন এলাকায় হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি আমেরিকা। যদিও হামলার কিছু আগেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে আসে। এই শহরেই ইরানের নৌ ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর বক্তব্য, সংঘর্ষবিরতি বজায় রেখেই তারা সংযত পদক্ষেপ করছে। তবে এর আগেও যুদ্ধবিরতির মাঝেই দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকা অভিযোগ করেছিল, তাদের যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। তার জবাবে ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ওয়াশিংটন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আগেই জানিয়েছিলেন, সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক সমাধানের সব রাস্তা খতিয়ে দেখতে চান তিনি। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি যে এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, সোমবার রাতের অভিযান সেই আশঙ্কাই আরও বাড়িয়ে দিল।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, বন্দর আব্বাসে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পরে তারা আরও জানায়, শহরের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে এবং শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
হরমুজ় প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে একাধিক দেশ।



