সকালবেলা রাস্তায় খেলছিল ছোট্ট গুড়িয়া। প্রতিদিনের মতোই বসেছিল প্রিয় বাতিস্তম্ভের নীচে। হঠাৎই উপরের আলো খুলে সোজা এসে পড়ে তার মাথায়। হেস্টিংসের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত বছরের শিশুকন্যার। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম গুড়িয়া। বয়স মাত্র সাত। সোমবার সকাল প্রায় সাতটা নাগাদ হেস্টিংস এলাকায় একটি বাতিস্তম্ভের নীচে খেলছিল সে। আচমকাই বাতিস্তম্ভের উপরের আলো খুলে নিচে পড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, আলোটি সরাসরি শিশুটির মাথায় আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে গুড়িয়া। পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হেস্টিংস থানার পুলিশ। তবে ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই দুর্ঘটনার পরই উঠেছে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে বাতিস্তম্ভ থেকে আলোটি খুলে পড়ে, সেখানে চারটি নাট থাকার কথা থাকলেও তিনটিই অনুপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি নাট উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াতেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কীভাবে বাতিস্তম্ভের আলো খুলে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
একটি ছোট্ট শিশুর প্রাণহানির পর এলাকায় ক্ষোভের পাশাপাশি নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হলে হয়তো এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হত না গুড়িয়াকে।



