আরও এক দফা মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে সাধারণ মানুষ। সোমবার, ২৫ মে থেকে ফের বেড়ে গেল পেট্রোল-ডিজেলের দাম। কলকাতা-সহ দেশের একাধিক শহরে নতুন দরে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়েছে। টানা কয়েক দফা বৃদ্ধির ফলে পরিবহণ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ— সব ক্ষেত্রেই বাড়তে পারে চাপ।
জ্বালানির দামে নতুন সংশোধনের পর কলকাতায় পেট্রোলের দাম পৌঁছেছে লিটার প্রতি ১১৩ টাকা ৪৭ পয়সা। অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ২ টাকা ৮৭ পয়সা। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটার প্রতি ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা, যেখানে বৃদ্ধি হয়েছে ২ টাকা ৮ পয়সা।
এর আগে ২৩ মে-ও দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেদিন কলকাতায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ৯৭ টাকা ০২ পয়সা। ফলে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ফের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় জ্বালানি বাজারে চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জাতীয় স্তরেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে বর্তমানে পেট্রোলের দাম হয়েছে লিটার প্রতি ১০২ টাকা ১২ পয়সা, আর ডিজেলের নতুন দাম ৯৫ টাকা ২০ পয়সা প্রতি লিটার। সর্বশেষ সংশোধনে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৬১ পয়সা, আর ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৭১ পয়সা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ দিনের মধ্যে এটি পেট্রোল-ডিজেলের চতুর্থ মূল্যবৃদ্ধি। এর আগে ২৩ মে পেট্রোলে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলে ৯১ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছিল। একই দিনে সিএনজি-র দামও কেজি প্রতি ১ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে দেশের বাজারেও। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন খরচ সামলেও তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়ছিল।
জ্বালানির এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা। পরিবহণ খরচ বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী এবং দৈনন্দিন পরিষেবার দামেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



