‘শিল্পীদের উপর অনেক চাপ থাকে’, পালাবদলের দিনে বিস্ফোরক শ্রাবন্তী

তৃণমূলের প্রচারে যাওয়া, বিজেপিতে লড়াই, শিল্পীদের উপর চাপ এবং ইন্ডাস্ট্রির লবি— একাধিক বিষয়ে খোলামেলা মন্তব্য করলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনই একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যাওয়া থেকে শুরু করে বিজেপিতে যোগদান, রাজনৈতিক চাপ, শিল্পীদের অবস্থান— একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে খোলাখুলি কথা বললেন অভিনেত্রী। তাঁর মন্তব্য, “শিল্পী হিসাবে আমাদের উপর অনেক চাপ থাকে।”

শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের সময় যখন গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির কথা সামনে আনেন শ্রাবন্তী। পালাবদলের খবর শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল? অভিনেত্রীর কথায়, “প্রথমেই অভয়ার মায়ের মুখটা মনে পড়েছিল। মনে হয়েছে, হয়তো এবার তিনি বিচার পাবেন। একজন মা হিসেবে আমি চাই তাঁর মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার হোক।”

পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন বলেও জানান শ্রাবন্তী। তাঁর মতে, “যদি সত্যিই বাংলার ভাল হয়, যদি মানুষ চাকরি পায়, তাহলে পরিবর্তন খারাপ কেন হবে?”

এই নির্বাচনে তাঁকে তৃণমূলের প্রচারে দেখা গিয়েছিল। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, “আমি একজন শিল্পী হিসেবেই গিয়েছিলাম। শিল্পীদের উপর অনেক চাপ থাকে। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই গিয়েছিলেন। আমি কোনও রাজনৈতিক নেতা নই।”

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শ্রাবন্তী। সেই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় ৫০ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাঁকে ভাবায় বলে স্বীকার করেন অভিনেত্রী।

শ্রাবন্তীর কথায়, “বেহালা আমার নিজের জায়গা। তাই সুযোগটা পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু মানুষ আমাকে গ্রহণ করেনি। পরে যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্নীতির ঘটনা সামনে এল, তখন খুব আফসোস হয়েছিল। মনে হয়েছিল, মানুষ যদি আমায় একটু বিশ্বাস করতেন, আমি হয়তো ভাল কাজ করতে পারতাম।”

তবে সেই হারই তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, রাজনীতি তাঁর জায়গা নয়। অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি এখন অভিনেত্রী হিসেবেই ভাল আছি।”

বিজেপি সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। শ্রাবন্তীর মতে, “২০২১ সালে বিজেপির বাংলাকে আরও ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজন ছিল। এখন হয়তো তারা বাংলাকে বুঝেছে বলেই এত মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন।”

নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। নারী নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুযোগ— এই বিষয়গুলিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি। বিশেষ করে বেহালার জলজট ও ট্র্যাফিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন শ্রাবন্তী।

একই সঙ্গে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়েও আক্ষেপ শোনা যায় তাঁর গলায়। অভিনেত্রী বলেন, “শিল্পীদের নিয়ে এত ট্রোলিং হয়। কিন্তু আমাদের উপরেও যে চাপ থাকে, সেটা কেউ ভাবে না। আমি চাই, ভবিষ্যতে কোনও শিল্পীকে যেন আর ‘ব্যান’ হতে না হয়। গ্রুপিজম বা লবির বাইরে এসে যোগ্যরা যেন কাজ পান।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রাবন্তীর এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং বাংলা বিনোদন জগতের একাংশের চাপা ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলনও বটে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন