বেলেঘাটার রাজনৈতিক ময়দানে এক ব্যতিক্রমী ছবি—নিজের পোস্টার নিজেই ছিঁড়ে ফেললেন কুণাল ঘোষ। কারণ? তাঁর নামের পোস্টার সাঁটা হয়েছিল সিপিএম প্রার্থী পারমিতা রায়ের পোস্টারের উপর। ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুধু আপত্তিই জানাননি, বরং প্রকাশ্যে ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’-র বার্তাও দিলেন তিনি। এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটা এলাকায় কিছু অতিউৎসাহী কর্মী সিপিএম প্রার্থীর পোস্টারের উপর কুণাল ঘোষের পোস্টার লাগিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সেখানে পৌঁছন তৃণমূল নেতা। পরিস্থিতি দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং নিজেই নিজের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর উপস্থিত কর্মীদের ডেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—এই ধরনের আচরণ তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করেন না।
কুণাল ঘোষ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বেশি উৎসাহী কর্মী আমার প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলীয় প্রচারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি জোর দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় এক সিপিএম নেতাকে ডেকে তিনি জানান, অন্য দলের পোস্টার নষ্ট করা বা তার উপর পোস্টার লাগানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এমনকি তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সরাসরি তাঁকে জানাতে।
এই ঘটনাকে অনেকেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। কারণ, ভোটের সময় পোস্টার ছেঁড়া বা একে অপরের প্রচার সামগ্রী নষ্ট করার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কুণালের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা বহন করছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
প্রসঙ্গত, এর ঠিক আগের দিনই পানিহাটির এক সভা থেকে রাজনৈতিক সৌজন্যের উপর জোর দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভোটের লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি করা উচিত নয়। প্রত্যেক প্রার্থীর নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং সেই সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি। কুণাল ঘোষের এই পদক্ষেপ অনেকেই সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভোটের আবহে রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সৌজন্যও বজায় থাকবে—এই বার্তাই সামনে আনলেন তৃণমূল নেতা।



