বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহ্যবাহী La Bombonera যেন সেই রাতে শুধু একটি ফুটবল স্টেডিয়াম ছিল না— তা হয়ে উঠেছিল আবেগ, স্মৃতি আর সম্ভাব্য বিদায়ের এক মহামঞ্চ। কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন Lionel Messi। গোল করার পর সমর্থকদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাঁর সেই মুহূর্ত যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল। প্রশ্ন একটাই— এটাই কি দেশের মাটিতে তাঁর শেষ ম্যাচ?
শুরু থেকেই মেসির ছোঁয়া
Argentina national football team বনাম Zambia national football team— কাগজে কলমে একটি প্রীতি ম্যাচ হলেও, বাস্তবে তা হয়ে ওঠে এক আবেগঘন সন্ধ্যা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই মেসির তৈরি আক্রমণ থেকে গোল করেন Julián Álvarez। যদিও অ্যাসিস্টের কৃতিত্ব যায় Thiago Almada-র নামে, গোটা মুভমেন্টের প্রাণ ছিলেন মেসি।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি। Alexis Mac Allister-এর সঙ্গে অসাধারণ বোঝাপড়ায় নিজের ১১৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন মেসি। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের সঙ্গে মিশে ছিল আবেগ আর একফোঁটা আশঙ্কা— এমন মুহূর্ত আর ক’বার দেখা যাবে?
বিদায়ের আবহ, তবু পুরো ৯০ মিনিটের লড়াই
ম্যাচ ঘিরে জল্পনা— এটাই কি দেশের মাটিতে মেসির শেষ উপস্থিতি? যদিও তিনি নিজে কিছু স্পষ্ট করেননি, তবুও পরিবেশ যেন বিদায়ের গল্পই বলছিল। কিন্তু মাঠে নামার পর কোনও আবেগ তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি।
পুরো ৯০ মিনিট খেললেন, বারবার আক্রমণ গড়লেন, সতীর্থদের সুযোগ করে দিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি পেয়ে নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দিলেন Nicolás Otamendi-র হাতে— জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া এই ডিফেন্ডারের জন্য সেটাই হয়ে উঠল এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
দাপুটে জয়, চোখ বিশ্বকাপে
দ্বিতীয়ার্ধে আরও গোলের বন্যা— একটি আত্মঘাতী গোল, আর একটি করেন Valentín Barco। সব মিলিয়ে ৫-০ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয় আর্জেন্তিনা।
এই জয়ের মাধ্যমে ফিফা উইন্ডো শেষ করল দলটি, যেখানে তারা Mauritania national football team ও জাম্বিয়ার বিরুদ্ধে টানা জয় পেয়েছে।
তবে এই রাতের আসল গল্প শুধু স্কোরলাইনে সীমাবদ্ধ নয়— এটি এক কিংবদন্তির গল্প, যিনি এখনও মাঠে নামলে জাদু দেখান।
২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— Lionel Messi কি সেই মঞ্চেও থাকবেন?
উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। কিন্তু লা বোম্বোনেরার এই রাত— ইতিমধ্যেই ইতিহাস।



