একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, বয়স নাবালিকা— তবু নিজের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সাহসী সিদ্ধান্ত। পরিবারের ঠিক করা বিয়ে নিজেই প্রশাসনকে জানিয়ে আটকে দিল বীরভূমের সমাপ্তি মণ্ডল। তার এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়ে উপহার পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, সমাপ্তির পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন।
বীরভূমের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সমাপ্তি মুক্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সম্প্রতি পরিবারের তরফে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা কিশোরীর সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি ছিল না। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে সে প্রথমে রাজনগর উন্নয়ন ব্লকের বিডিও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানায়। যদিও তার বাড়ি দুবরাজপুর উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত, তবু দ্রুত প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি পৌঁছে যায়।
নিজের বিয়েই নিজেই থামাল সমাপ্তি! বীরভূমের ‘হিরো’ কিশোরীকে কম্পিউটার উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

দুবরাজপুরের বিডিও অবিলম্বে সিডিপিও-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। বিয়ের দিনই আইসিডিএস সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রশাসনের তৎপরতায় থেমে যায় নাবালিকার বিয়ে। সমাপ্তির এই উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার প্রশংসা করছেন স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ অন্য কিশোরীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী সমাপ্তির সাহসে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে একটি কম্পিউটার উপহার পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সেই উপহার হাতে পেয়েছে সমাপ্তি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভারও সরকার বহন করবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সমর্থনে খুশি কিশোরী ও তার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
সমাপ্তির এই লড়াই যেন শুধু একটি বিয়ে রুখে দেওয়া নয়— বরং শিক্ষার অধিকারের পক্ষে এক দৃঢ় বার্তা, বলেই মত সমাজের বিভিন্ন মহলের।



