ভেন্যু-সংকটে যখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিচ্ছিল পাকিস্তান, তখনই আচমকা পাল্টে গেল সুর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিল—টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই। এতদিন যে সমর্থনের উপর ভরসা রেখেছিল ঢাকা, তা কার্যত তুলে নিল লাহোর—ফলে বিশ্বকাপের জটিলতায় বাংলাদেশ আরও একা।
বিশ্বকাপের ভেন্যু ইস্যুতে বাংলাদেশের দাবিকে নৈতিক সমর্থন দিলেও, Pakistan Cricket Board (PCB) স্পষ্ট করেছে—বয়কট তাদের বিবেচনায় নেই। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এবং ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদনে বোর্ড সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছে ঠিকই, কিন্তু টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার কখনওই কোনও বিকল্প ছিল না।”
এর আগে প্রকাশ্যে শোনা গিয়েছিল—বাংলাদেশ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে পাকিস্তানও একই পথ নিতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি ঘোরালো হতেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে PCB। বোর্ডের যুক্তি, পাকিস্তানের ম্যাচগুলি আগেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নির্ধারিত এবং সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন নেই। তাই বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্তের প্রয়োজনই নেই। PCB আরও দাবি করেছে, বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি তারা কখনও সরকারি ভাবে দেয়নি—এটি মূলত সোশাল মিডিয়ার জল্পনা।
এদিকে বাংলাদেশের জন্য শেষ সুযোগের দরজা খোলা রেখেছে International Cricket Council (ICC)। বুধবার আইসিসির ভোটাভুটিতে ১৪টি বোর্ড ভারতের পক্ষে ভোট দেয়, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় মাত্র দু’টি। ফলে আইসিসি স্পষ্ট করে দেয়—ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। তা না হলে তাদের জায়গায় সুযোগ পাবে Scotland national cricket team। এই পরিস্থিতিতে Bangladesh Cricket Board (BCB) সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দু’দেশেই আপত্তির সুর শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার Kamran Akmal প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আইসিসির বেশির ভাগ সিদ্ধান্তই ভারতের অনুকূলে যায়। কামরানের যুক্তি—চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ক্ষেত্রে যদি ভারতের জন্য ভেন্যু বদলানো সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য একই সুবিধা কেন নয়? তাঁর মতে, আইসিসিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয় বলেই ভারতের প্রভাব বেশি।
সব মিলিয়ে, প্রকাশ্য সমর্থনের কথা বললেও কার্যত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল না পাকিস্তান। বিশ্বকাপের সময়সীমা যত ঘনাচ্ছে, ঢাকার উপর চাপ ততই বাড়ছে—আর সেই লড়াইয়ে এবার একাই দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।



