নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমায় তৈরি হল তীব্র উদ্বেগ। চারটি বিধানসভা—বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা—মিলিয়ে প্রায় ৮৬ হাজার ১৭৫ জনের নাম খসড়া তালিকায় নেই বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই তথ্য সামনে আসতেই ভোটারদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে।
প্রশাসনিক হিসেবে বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার, একাধিক স্থানে নাম থাকা ব্যক্তি এবং তথাকথিত অস্তিত্বহীন ভোটার। তবে স্থানীয়দের দাবি, তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে বহু মতুয়া উদ্বাস্তু পরিবার রয়েছেন—যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
কোন কেন্দ্রে কত নাম বাদ
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি—২৬ হাজারেরও বেশি—নাম নেই। বাগদায় বাদ পড়েছে ২৪,৯২৭ জন, গাইঘাটায় ১৬,৬৪২ জন এবং বনগাঁ দক্ষিণে ১৮,৫৬৩ জন। শতাংশের নিরিখে গাইঘাটায় বাদ পড়ার হার তুলনামূলক বেশি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
মাঠের প্রতিক্রিয়া
খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একাধিক বাসিন্দা। তাঁদের বক্তব্য, নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, CAA-তে আবেদন করা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আশঙ্কা কাটছে না।
বিজেপির অবস্থান
গাইঘাটা বিধানসভা মতুয়া ঠাকুরবাড়ির অন্তর্গত। ওই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাদ পড়াদের বড় অংশই মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার; প্রকৃত উদ্বাস্তু ভোটার বাদ পড়েছেন কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
বনগাঁর সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে মৃত, অস্তিত্বহীন ও অনুপ্রবেশকারী ভোটার থাকতে পারেন। মতুয়াদের নাম বাদ পড়েছে কি না—তা যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক নয়।”
তৃণমূল ও বামেদের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা আগেই জানিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “এই প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।”
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও মতুয়া ঠাকুরবাড়ি গিয়ে বলেন, “মতুয়াদের নাম বাদ গেলে দায় তাঁদেরই, যাঁরা এই ভোটে জিতে সাংসদ–মন্ত্রী হয়েছেন। প্রয়োজনে আইনি পথেও যাওয়া হবে।”
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা চূড়ান্ত নয়। দাবি–আপত্তি ও শুনানি পর্বে উপযুক্ত নথি দিলে নাম পুনর্বহালের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিএলও-দের মাধ্যমে ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর।



