একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানকারী শুভেন্দু অধিকারী। এই ভোট নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। মামলাও চলছে আদালতে। তবে, মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু এই মুহূর্তে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মমতা ও শুভেন্দু যে এই মুহূর্তে রাজ্যের দুই যুযুধান নেতা সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তিনি শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে গিয়ে চা খেতে পারেন! ব্যাপারটা কী?
আসলে, বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে একটি ইস্যু আবারও তোলপাড় ফেলেছে। সেটা হল, বঙ্গভঙ্গ। শুরুটা হয়, যখন বালুরঘাটের সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে। এরপর আরও একধাপ এগিয়ে, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ দাবি তোলেন, গ্রেটার কোচবিহারের। সরাসরি তিনি সেই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। বিতর্ক আরও বাড়ে যখন, ঝাড়খন্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, মালদহ-মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ঘোষণা করতে, কারণ এই দুই জেলার হিন্দুরা নাকি বিপন্ন!
বিজেপির এই একাধিক দাবিকে বঙ্গভঙ্গের ‘চক্রান্ত’ হিসাবেই দেখে তৃণমূল। কড়া সমালোচনা করা হয় শাসক দলের তরফে। এরই মধ্যে আবার মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করছেন আবার তিনিই তো অনন্ত মহারাজের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছেন। এ কেমন দ্বিচারিতা!
পাল্টা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি অনন্ত মহারাজের বাড়িতে চা খেতে গিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীও যদি তাঁকে ডাকেন তাহলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে চা খেতে আপত্তি নেই মমতার! প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গ সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই কোচবিহারে গিয়ে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অনন্ত মহারাজও মুখ্যমন্ত্রীকে যথাযথ সম্মান জানান। এরপর সাময়িকভাবে জল্পনাও তৈরি হয়, অনন্ত মহারাজ কি তৃণমূলে যোগ দেবেন? তা যদিও হয়নি। এবার অনন্ত মহারাজের সঙ্গে মমতার যোগ টেনে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু, পাল্টা জবাবও দিলেন মমতা!



