বাংলার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ, ২২ এপ্রিল ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করলেন। একই সঙ্গে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ১২ শতাংশ হারে সুদ সহ চাকরি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: আমাদের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছে আদালত, চাকরি বাতিলের নির্দেশের পর এমন কেন বললেন ব্রাত্য?
কলকাতা হাই কোর্টের এই রায়ের পর উত্তাল রাজ্য-রাজ্যনীতি। একদিকে পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য সরকার। সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার এত কম সময়ে চাকরিহারাদের পক্ষে এই বিপুল টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে চাকরিহারাদের ‘উপায়’ বাতলে দিলেন আইনজীবী তথা তমলুকের সিপিআইএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।

চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে সায়নের বার্তা, “আপনারা তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে যান। গিয়ে টাকা চান। আজ সন্ধ্যেবেলাই যান। না দিতে চাইলে বাড়ি ঘেরাও করুন। আপনারা যে যে তৃণমূল নেতাদের কাছে টাকা দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে টাকা চান। সে যে স্তরের নেতাই হোক। এই টাকা ঘটিবাটি বেচে তৃণমূল নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন আপনারা।”

হাই কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগামীদিনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হবে, এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “এই রায় বেআইনি। আমরা এই রায় মানি না। আমি বিচারকদের কিছু বলছি না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে বলতেই পারি। সেটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজেপির কথায় এই রায় হয়েছে। একতরফা রায়। বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরত চান, চাকরিহারাদের ‘উপায়’ বাতলে দিলেন সায়ন

অন্যদিকে, চাকরি বাতিলের রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমার খুব খারাপ লাগছে যে আমরা একজন জোচ্চর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনে বাস করছি। এবার প্রমাণ হয়ে গেল রাজ্য সরকার কত বড় দুর্নীতি করেছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাই। জোচ্চুরিকে প্রশ্রয় দেন। লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করুন। লোকসভা নির্বাচনে এবার থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।”



