নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত রাজ্য। স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে পথে নেমেছে চাকরিপ্রার্থীরা। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) এক হাজার তম দিনে পা দিয়েছে এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন। সকাল থেকেই প্রতিবাদ ও দাবিতে আন্দোলন আরও ঝাঁঝালো রূপ নিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এই আবহেই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
আরও পড়ুন: SLST চাকরিপ্রার্থীদের পাশে CPIM, বিমান বসুর নেতৃত্বে মিছিল বামেদের
হকের চাকরির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীরা। যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগ কেন নেই সেই অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ৯৯৯ দিন ধরে আন্দলোন চলার পর শনিবার ১০০০ তম দিনে পা দিল এই আন্দোলন। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। মহিলা প্রার্থীরা মাথা কামিয়ে এবং পুরুষ চাকরিপ্রার্থীরা পোশাক খুলে আন্দোলন করছে। এদিন মাথার চুল কামিয়ে ফেলেন রাসমনি পাত্র নামে এক চাকরিপ্রার্থী। এরপর ক্রমশ ধর্নামঞ্চ রাজনৈতিক সভার রূপ নেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ধর্নামঞ্চে আসেন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী অনেকেই সেখানে যান, চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এমন সময়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে ধর্নামঞ্চে যান কুণাল ঘোষ। তাঁকে আসতে দেখেই কৌস্তভ বলেন, ‘সরকারি দলের প্রতিনিধিরা এখানে কী নাটক করতে এসেছেন? যদি হিম্মত থাকে তাহলে সরকারের কাউকে নিয়োগপত্র দিয়ে পাঠাক।’ ধর্নামঞ্চে বসেই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কথা বলিয়ে দেন। শিক্ষামন্ত্রী চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় দেন। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর দুপুর তিনটেয় ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁদের। চাকরিপ্রার্থীদের ৭ জন প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেবেন।

কুণাল ঘোষ জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই যান যাতে নিয়োগ হোক, চাকরি হোক। কিন্তু কোনও একটা জটে তা আটকে রয়েছে। আমি সরকারি প্রতিনিধি নই। আমার ক্ষমতাও নেই। আমার তরফে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি তা আগেও নিয়েছি, এবারও নিচ্ছি।”

আন্দোলনের ১০০০ তম দিনে ধর্নামঞ্চে কুণাল, SLST চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলালেন ব্রাত্যর
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, আন্দোলনে যতজন সামিল আছেন তাঁদের প্রত্যেককে নিয়োগ দিতে হবে। সোমবারের বৈঠক তাঁদের যেন শেষ বৈঠক হয় এবং এরপর সকলেই চাকরি পেয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারেন, সেই আশাই করছেন আন্দোলনকারীরা।



