Chandrayaan 3: বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিন শেষ হয়েছে চাঁদে। দীর্ঘ ১৪ দিন টানা কাজ করার পর ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানকে। এখন চাঁদে নামছে রাত। তাই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে দু’জনকেই। তবে, একটি জিনিস কিন্তু সক্রিয় থাকবে চাঁদে। আর সেই জিনিসটা ইসরোকে ‘উপহার’ দিয়েছে নাসা। জানেন ব্যাপারটা কী?

আরও পড়ুনঃ কাজ ফুরোলেও চাঁদের দেশে ‘মৃত্যু’ নেই বিক্রম প্রজ্ঞানের, আবার কবে ‘নিদ্রাভঙ্গ’ হবে? জানাল ইসরো

এতদিনে অনেকেই জানেন, চন্দ্রযানের ল্যান্ডার অর্থাৎ বিক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চারটি পোলেড। যাঁদের নাম, রম্ভা, চ্যাস্টে, ইলসা এবং অ্যারে। এই চারটি পোলেডের মাধ্যমেই চাঁদে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিক্রম। চারটি পোলেডের কাজ কিন্তু আলাদা আলাদা। আগে জেনে নেওয়া যাক, পোলেড চারটির পুরো নাম এবং কাজ।

বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?

রম্ভার পুরো নাম রেডিয়ো অ্যানাটমি অফ মুন বাউন্ড হাইপারসেন্সিটিভ আয়ানোস্ফিয়ার অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার। এর মূল কাজ ছিল চাঁদের আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য জানানো। চ্যাস্টের পুরো নাম চন্দ্রাস সারফেস থার্মোফিজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট। এর মাধ্যমেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটির তাপমাত্রা জানা গিয়েছে। ইলসার আসল নাম ইন্সট্রুমেন্ট ফর লুনার সিসমিক অ্যাক্টিভিটি। ইলসা মাটির কম্পন মাপতে সাহায্য করে। এর সাহায্যেই কিন্তু চাঁদের ভূমিকম্প অর্থাৎ ’মুনকোয়েক’ টের পাওয়া গিয়েছে।

বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?

এবার বল্ব, চার নম্বর পোলেডের কথা। এটির নাম এলআরএ বা অ্যারে। এর পুরো নাম দ্য লেসার রেট্রোরিফ্লেক্টর অ্যারে। এখন যখন বিক্রম প্রজ্ঞান সহ বাকি তিনটি পোলেড ঘুমিয়ে পড়েছে তখন কাজ শুরু করবে অ্যারে। আর সবচেয়ে মজার কথা, এই প্লডটি কিন্তু ভারতে তৈরি হয়নি। এটি তৈরি হয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গর্ডডার্ড স্পেস ফ্লাইটে।

তো অ্যারের কাজটা ঠিক কী? আসলে, বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তি ছাড়াই অ্যারে কাজ করতে সক্ষম। তাই চাঁদে রাত নামলেও এই পোলেডটির কাজ করতে কোনও অসুবিধা নেই। অ্যারের ভিতর ১.২৭ সেমি ব্যাসের মোট ৮টি গোল রেট্রোরিফ্লেক্টর রয়েছে যা ৫.১১ সেমি ব্যাসের ১.৬৫ সেমি উঁচু একটি প্ল্যাটফর্মের উপর স্থাপিত। অ্যারের ভর মাত্র ২০ গ্রাম। রেট্রোরিফ্লেক্টরগুলিকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে সঠিকভাবে লেজার রশ্মির প্রতিফলন ঘটাতে পারবে। ফলে কী হবে?

বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?

এবার চাঁদের বাইরের কক্ষপথে যদি কোনও মহাকাশযান আসে তাহলে সেই মহাকাশযানের লেজার রশ্মি অ্যারে পোলেডের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। আর তখনই কাজ করবে অ্যারে। এর মাধ্যমে জানা যাবে চাঁদ এখন কতদূরে অবস্থান করছে, চাঁদের ঘূর্ণন হার কত। এখই সঙ্গে ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞানের অবস্থান জানাতে পারবে এই পোলডটি।

বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?
বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন