নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর ২৪ পরগনার ভাঙড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু এর ফলে খোদ বিধায়ক নিজের নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে বাধাপ্রাপ্ত হন। বারংবার একই ঘটনা ঘটায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সোমবার এই মামলার নিষ্পত্তি হল আদালতে।
আরও পড়ুন: রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে ‘বিভ্রান্ত’ খোদ শীর্ষ আদালত, কিন্তু কেন?
পঞ্চায়েতের নির্বাচন পর্বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ছড়িয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও একটি জায়গা কার্যত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছিল। তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষে বহু রক্ত ঝরেছে, বোমাবাজি, গুলি চালানোর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যায়। এমত অবস্থায় ভাঙড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরপর দু’বার ভাঙড়ে ঢোকার মুখে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নওশাদ। এই বিষয়তে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন বলেও খবর।

সোমবার নওশাদের মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে। রাজ্যের আইনজীবী হাইকোর্টে জানায়, আজ থেকেই ভাঙড়ে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নওশাদের মামলার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই। এরপরই হাইকোর্ট মন্তব্য করে, রাজ্য এই ধারা প্রত্যাহার করায় নওশাদ সিদ্দিকির ভাঙড়ে ঢুকতে আর কোনও বাধা রইল না।

১৪৪ ধারা জারি হওয়ার পর বারংবার ভাঙড়ে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। ভোট হিংসায় আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু রাজারহাটে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়, বিধায়কের ‘অশান্ত’ ভাঙড়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে কয়েক ঘণ্টা গাড়িতেই বসে থাকেন তিনি। পুলিশ জানায়, ভাঙড়ে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সকলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কাদের অনুমতি রয়েছে তার একটি তালিকা রয়েছে যেখানে নওশাদের নাম নেই। আইএসএফ বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁকে পরিকল্পনা করে অনৈতিকভাবে আটকানো হচ্ছে।
ভাঙড়ে ঢুকতে পারবেন Nawshad Siddiqui, আজ থেকে থাকছে না ১৪৪ ধারা, হাইকোর্টে জানাল রাজ্য




