নজরবন্দি ব্যুরোঃ গোষ্ঠীহিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করল তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধি দল। বুধবার দুপুরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্যে গিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা কুকি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাহাড়ি চূড়াচাঁদপুর জেলার পাশাপাশি মেইতেই জনগোষ্ঠী প্রভাবিত ইম্ফল উপত্যকার কয়েকটি ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুনঃ ১০০ শতাংশের বেশি ভোটে জয়! বিডিও-র কাছে ‘ভুতুড়ে ভোটার’-এর হদিশ চাইল হাইকোর্ট
প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুস্মিতা দেব। বিশেষ অনুমতি নিয়ে হেলিকপ্টারে করে পাহাড়ি এলাকা চুড়াচাঁদপুরের শরণার্থী শিবিরে যাণ তৃণমূল সাংসদরা। উল্লেখ্য, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পর অগ্নিগর্ভ মণিপুরে তৃণমূলই প্রথম বাস্তব পরিস্থিতি জানতে টিম পাঠাল।

শরণার্থী শিবির ঘুরে বিকেলে রাজ্যপালের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন তৃণমূল সাংসদরা।মণিপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। তার পর রিপোর্ট আকারে তা তুলে দেওয়া হবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।
গত ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই বিজেপি শাসিত রাজ্যে। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল।

এর পরেই কুকি, জ়ো-সহ বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই হিংসার সূচনা হয় সেখানে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল চুড়াচাঁদপুর থেকে ফিরে ইম্ফলে এসে শহরের উপকণ্ঠে আকামপাট এলাকায় মেইতেই গোষ্ঠীর শিবিরে যান।
মণিপুরে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

সেখানে ১ হাজার ৭২০ জন শরণার্থী রয়েছেন। তাদের সঙ্গেও দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেন তৃণমূলের পাঁচ সাংসদ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনে নেন। সংঘর্ষের নেপথ্যের কাহিনিও জেনে নেন। সকলেই দুর্বিষহ জীবনের ইতি টানতে চান।



