নজরবন্দি ব্যুরোঃ কোচবিহারের যুবক প্রেম কুমার বর্মনের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে পিছপা হলেন না তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রেম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব। বাড়ি যেন ছেড়ে বের হতে না পারে এরা। ঘেরাও করে রাখতে হবে।
এদিন অভিষেক সভা চলাকালীন বলেন, দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক গীতলদহ এলাকার ভাড়বাঁধা গ্রামের এক যুবক। তাঁর নাম হচ্ছে প্রেম কুমার বর্মন, আপনারা তাঁর নাম শুনেছেন? বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছর। ব্যাঙ্গালুরুতে কাজ করতে, ৪ বছর পর বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি ফিরে সকালে মাঠে ঘুরতে গিয়েছিল। মাঠে ঘুরতে যাওয়ার সমস্য এক থেকে দুই হাত দূর থেকে বিএসএফের জওয়ানরা তাঁকে গুলি করে মেরেছে। আপনারা এই ঘটনাটি জানেন।
এরপরেই তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করতে চাই, এই যে রাজবংশী তরতাজা যুবককে ইচ্ছেকৃতভাবে হত্যা করে যারা প্রাণ নিল বিএসএফ। আর কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজবংশীদের হত্যা করে যারা রাজবংশীদের দরদ দেখায়, আমি সেই ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডেপুটি, এখানাকার সাংসদকে প্রশ্ন করতে চাই। প্রেমকুমার বর্মনের অপরাধ কী ছিল? সে জঙ্গি? সে রাজবংশী? তাঁর থেকে কী বোমা বন্দুক উদ্ধার হয়েছিল? সে কি সকাল ৭ টার সময় যুদ্ধ করতে গিয়েছিল? সে কি গরুপাচার করতে গিয়েছিল? নাকি সোনা পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল?

এরপরেই তিনি বলেন, বিএসএফকেও প্রশ্ন করছি। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর ডেপুটি কোচবিহারের লজ্জা নিশীথ প্রামাণিককেও প্রশ্ন করছি। যারা কথায় কথায় বলে রাজবংশী অন্তপ্রাণ। প্রেম কুমার বর্মন কী? গরু পাচারকারী? ৪৮ ঘন্টা সময় দিলাম। তোমার অবস্থান পরিষ্কার করো। মানুষের কাছে ক্ষমা চাও। প্রেমকুমার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। আমি নিজে এই রিপোর্ট হতবাক। তাঁর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, তাঁর শরীর থেকে কটা বুলেট পেয়েছে জানেন?

তাঁর সংযোজন, যে বন্দুক দিয়ে কাশ্মীরে আধাসেনা জঙ্গি মারে। সেই বন্দুক দিয়ে প্রেমকুমারকে হত্যা করেছে বিএসএফ। কটা পেলেট পাওয়া গেছে জানেন? যদি সে গরুপাচারকারী হয়! তাঁকে হেফাজতে নিয়ে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যখন তাঁকে মেরেছে তাঁর থেকে গরু উদ্ধার হয়েছে? সোনা উদ্ধার হয়েছে? প্রশাসনের কাছে অনুরোধ। পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা এর শেষ দেখতে চাই। আমি এটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো। আমি নিজে তৎপর হয়ে লেগে থাকব। যদি কেউ একটা পরিবারের সঙ্গে অন্যায় করে থাকে আমি ছাড়ব না। আমি এর জন্য সুপ্রিম কোর্ট যেতে প্রস্তুত। প্রেমকুমারের শরীর থেকে ১৮০ টি গুলি পাওয়া গেছে। তাঁর পায়ে এমন মারা হয়েছে রক্তক্ষয়ের কারণে মারা গেছে।
প্রেম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, কী বললেন অভিষেক?

এদিন প্রেমের বাবা, মা ও দাদাকে মঞ্চে পেশ করেন অভিষেক। এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, এই নৃশংস ঘটনার পরেও বিজেপির কারোর মনে হল না প্রেমের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার। একবার প্রয়োজন মনে করেনি। এটুকু মনুষ্যত্ব কারোর মধ্যে যদি না থাকে, তাঁকে ক্ষমা করা উচিত? আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, তাঁর মাথায় ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে, তাও আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।



