নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রবল গরমের দাবদাহকে উপেক্ষা করেই প্রতিবাদের ঝাঁঝ জারি রেখেছে হবু শিক্ষকরা। কারণ, মেধাতালিকাভুক্ত হয়েও দুর্নীতির কোপে চাকরি থেকে বঞ্চিত। একটানা সাড়ে ৪৫০ দিনের অধিক সময় ধরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না জারি রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে মঙ্গলবার আন্দোলনের মঞ্চে অসুস্থ এক চাকরীপ্রার্থী।
আরও পড়ুনঃ সেঞ্চুরি করে ‘আউট’ ঠাকুমা, ডিজে-ব্যান্ড বাজিয়ে নাচতে নাচতে শ্মশানে নাতিরা
অসুস্থ ওই চাকরীপ্রার্থীর নাম সুবোধ হালদার। তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বীরভূমের ইলামবাজারের বাসিন্দা তিনি। চাকরীপ্রার্থীরা জানিয়েছে, সুবোধ হালদার খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সুবোধ হালদার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মেধাতালিকা ভুক্ত হয়েও স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

চাকরীপ্রার্থীদের অভিযোগ, প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷ ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এই অভিযোগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
আন্দোলনের মঞ্চে অসুস্থ এক চাকরীপ্রার্থী, প্রবল গরমেও চলছে আন্দোলন

সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন। এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিন ৪৫৭ দিনের মাথায় পড়ল আন্দোলন।



