নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায় সিপিআইএম বা বামেদের ২০১৬ সালে প্রাপ্ত ভোটের প্রায় ৮০ শতাংশ চলে গিয়েছিল বিজেপিতে। সেই ধারা অব্যাহত ছিল ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনেও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হয় দুবারই (‘১৬, ‘২১) কংগ্রেসের সাথে জোট ছিল বামফ্রন্টের। ২০১১তে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২১ নির্বাচনে পুরোপুরি সাফ, কংগ্রেসের হাত ধরেই! এরপর উপনির্বাচনে যেন শাপমুক্তি, কংগ্রেসের হাত ছেড়েই।
আরও পড়ুনঃ যুবভারতীর বুকে জাতীয় সঙ্গীত বিভ্রাট, আন্তর্জাতিক লজ্জার মুখে কলকাতা।
কিন্তু আবার সেই বাম কং জোট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে রাজ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের পর উপনির্বাচন এমনকি পুরসভা নির্বাচনেও বামফ্রন্টগত ভাবে অনেক জায়গায় লড়াই করে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেছে সিপিএইএম। দলের মধ্যে যখন জোট ছেড়ে একা লড়াই করার আওয়াজ উঠছে তখন ফের বঙ্গ সিপিএইএম জোটের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল কংগ্রেসের সাথে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ২৩ তম পার্টি কংগ্রেসে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের। সেখানে রাজনৈতিক প্রস্তাবে লেখা হয়েছে, “কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব দুই-ই ক্রম হ্রাসমান। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় নেতৃত্বের বিজেপিতে যোগদানের ফলে তারা ধারাবাহিক সঙ্কটে নিমজ্জিত। কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ঘোষণা করলেও, হিন্দুত্বের আক্রমণের মুখে তারা কার্যকর মতাদর্শগত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই আপোষ নীতি নিয়ে চলেছে। দুর্বল কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপি বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলিকে একজোট করা সম্ভব না।”

সর্বভারতীয় সিপিআইএমের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোটের পথে তারা হাঁটবে না। রাজনৈতিক প্রস্তাবে লেখা হয়েছে, “২২ তম পার্টি কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিবেদনে (২.৮৯ নং অনুচ্ছেদ) উল্লেখ করা হয়, আরএসএস-এর সঙ্গে জীবন্ত যোগাযোগ বজায় রেখে চলা বিজেপি যখন ক্ষমতাসীন সেই সময় তারাই প্রধান বিপদ। এই কারণেই বিজেপি এবং কংগ্রেসকে সমান বিপদ বলে বিচার করা চলে না। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোট সম্ভব নয়।”
শাসক বিরোধী মানুষ ফিরছে লাল ঝাণ্ডার ছায়ায়, ফের কংগ্রেসের হাত ধরার ইঙ্গিত CPIM-এর।

কিন্তু বাংলার সিপিএইএম যে উলটো সুর গাইছে। কংগ্রেসের সাথে জোটের কথা আগেও যেমন স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, ঠিক তেমনই এবারেও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পাণি’ মার্কা বক্তব্য় বঙ্গ সিপিআইএমের। পার্টির বক্তব্য, “রাজ্যের রাজনৈতিক লাইনের প্রধান কথা হল, বিজেপি ও তৃণমূল—এই দুই চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পরাস্ত করো। বামফ্রন্টের শক্তিকে সংহত করে অন্যান্য বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি ও ব্যক্তিদের জড়ো করতে হবে।”



