নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে ভেসে যাওয়ার উপক্রম পশ্চিমবঙ্গের। কিছুক্ষন আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের জন্যে আশঙ্কার কথা শোনানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমনের হারে দেশে প্রথম স্থানে বাংলা। যা অত্যন্ত খারাপ ইঙ্গিত। এখনই সতর্ক না হলে কিছুদিনের মধ্যেই ঘরে ঘরে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘কর্মসংস্থান’ – উলুবেড়িয়ায় তৈরি হল কাশ ফুলের বালিশ, প্রথম উপহার মুখ্যমন্ত্রীকে!
পরিসংখ্যান বলছে শুধু পজিটিভিটি রেট নয় সক্রিয় আক্রান্তের নিরিখে দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে বাংলার নাম। বিশেষজ্ঞদের ধারনা, এভাবে চললে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মহারাষ্টকেও ছাপিয়ে যাবে রাজ্য। একেই কোভিড বিধি সেভাবে মানছেন না মানুষ তাঁর ওপর গঙ্গাসাগর মেলা। সব মিলিয়ে কোভিডের বিস্ফোরন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজ্যে।
সব থেকে গুরুতর অবস্থা কলকাতার। কলকাতার পজিটিভিটি রেট এই মুহুর্তে ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টি টেস্টে ৬০ জনই পজিটিভ কলকাতায়। মহানগরে গত ৭ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে নজিরবিহীন অবস্থা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই এই রেট গিয়ে দাঁড়াবে ১০০ শতাংশে।
রাজ্যে এই মুহুর্তে পজিটিভিটি রেট ৩২ শতাংশ। স্বাস্থ্য দফতর প্রদত্ত শেষ বুলেটিন বলছে গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৬৫ হাজার ২১০ টি টেস্ট হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৯৮ জন। আজ মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। সার্বিক ভাবে সুস্থতার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.২০ শতাংশে। ১৫ দিন আগেই রাজ্যে সুস্থতার হার ছিল ৯৮ শতাংশের ওপরে। অর্থাৎ গত ১৫ দিনে কোভিডে সুস্থতার হার কমেছে ৫ শতাংশের মত।
আবার পূর্ণ লকডাউনের ইঙ্গিত, সংক্রমনের হারে দেশে প্রথম স্থানে বাংলা।

করোনার বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতি নিয়ে আগামী কাল বিকেল ৪টের সময় মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, ভ্যাকসিনের পাশাপশি লকডাউনের প্রসঙ্গ উঠতে পারে সেই বৈঠকে। এদিকে চিকিৎসকদের একাংশ লকডাউনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। বলছেন, কমপক্ষে ১০ দিনের জন্যে পূর্ণ লকডাউন জরুরি।



