নজরবন্দি, জলপাইগুড়ি: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ফিরলেন উত্তরবঙ্গের আট ডাক্তারী পড়ুয়া, স্বস্তির নিঃশ্বাস পরিবারে। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হতে চলেছে। টানা ১০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা ক্রমশ বাড়াচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়ার বোমারু বিমান ইউক্রেনের একের পর এক শহরে বোমা ফেলেই চলেছে।
আরও পড়ুনঃ আমি পালাতে শিখিনি,পড়ুয়াদের না ফিরিয়ে ইউক্রেন ছাড়তে নারাজ এই বাঙালি যুবক
অন্যদিকে ন্যাটোর বিভিন্ন দেশ থেকে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করতে সেনা, যুদ্ধের অস্ত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফলে দিন যত এগোচ্ছে পরিস্থিতি ততই উদ্বেগ জনক হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের ফেরাতে তৎপর হয়ে উঠেছে ভারত।
ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল সারা বিশ্ব। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে ইউক্রেনের আটকে পড়েছিলেন ভারতবর্ষের বহু পড়ুয়া। রীতিমতো আতঙ্কে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। সেই ছবি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন ভারতবর্ষের সকল মানুষ। পরিবারের ছেলেমেয়েদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি মিনতি করেছিল আটকে পড়া পড়ুয়াদের মা-বাবারা। তবে ভারত সরকারের উদ্যোগে আটকে পড়া পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিন শিলিগুড়ির তিন পড়ুয়া। উত্তর দিনাজপুরের তিন পড়ুয়া ও আলিপুরদুয়ার দুই পড়ুয়া ছিল একই সাথে বিমানবন্দরে নামেন। শিলিগুড়ির প্রীতম মালাকার ইউক্রেনের পোল্টাভায় স্টেট ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শিলিগুড়ির বিশাল সাহা খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শিলিগুড়ির অক্ষত কুমার দাস কিভ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আলিপুরদুয়ারের দিভয়ম কৌশিক ও তনবির ইসলাম বুকোভেনিয়ান স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার দুই ভাই সোহেল আখতার ও সাহিদ আখতার বোগোমোলেটস ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং ইসলামপুরের পাভেল দাস টার্নোপিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রীতম মালাকার বলেন, আমার বর্ডারে পৌঁছাতে খুব কষ্ট হয়েছিল। আমি ২৮ তারিখ থেকে জার্নি শুরু করি এবং পৌছাই ৬ মার্চ এরপর দেশে ফিরি। বিশাল সাহা বলেন যে আমাদের খারকিভ রেল স্টেশনে যেতে হয়ে পায়ে হেঁটে। আর ঠিক ওই মুহূর্তেই আমাদের সামনেই বোমাটা ফেলেছিল। টক্সিটা পেয়েছিলাম এর জন্য বেঁচে গেছি তা নাহলে আমরা এখানে থাকতাম না। এরপর সেখান থেকে লাভিভ শহরের দিকে গেলে সেখানে আমাদের ট্রেনে উঠতে দিচ্ছিল না। প্রথমে ইউক্রেনিয়ান পরে ভারতীয় খুব ভেদাভেদ করেছিল। তারপর ট্রেনে ওঠার পর পোল্যান্ড বোর্ডারে যাওয়া হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ফিরলেন উত্তরবঙ্গের আট ডাক্তারী পড়ুয়া
আর খারকিভের অবস্থা খুবই খারাপ। চারদিকে বোমা পড়েছে একটা সুরক্ষিত জায়গা নেই। এখনও ছাত্ররা ওখানে ফেঁসে আছে। আমার বন্ধু যারা রয়েছে তারা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বোর্ডারে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে আমাদের আবার যেতে হবে কারণ আমরা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আর পড়াশোনার কেরিয়ারে এক প্রশ্ন চিহ্ন রয়েগেছে। তাই ভারত সরকার যদি কোন ভাবে আমাদের সাহায্য করে তাহলে খুবই ভাল হয়। দেশে ফিরে খুব ভাল লাগছে।



