পশ্চিমবঙ্গে বিখ্যাত যে সমস্ত মানুষ বাঙালি হিসেবে গোটা বিশ্ব তথা ভারতের কাছে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার মধ্যে অভিনয় বা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম নাম উত্তম কুমার। অর্থাৎ মহানায়ক উত্তম কুমার। আজ এই মহান অভিনেতার ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮০ সালের ২৪ শে জুলাই সিনেমার শুটিং করতে করতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মহানায়ক।

তারপরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উত্তম কুমার ১৯২৬ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম ছিল অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায়। এই অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায় থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার হবার যে জার্নি তা সব সময় সব অভিনেতাদের শিক্ষার বিষয় হয়ে রয়ে গিয়েছে। একজন অভিনেতা সব সময় চান তার মৃত্যুর সময় যাতে তিনি সঠিকভাবে কাজ করে যেতে পারেন।

বা কাজ করতে করতে তার যেন মৃত্যু হয়। উত্তম কুমারের জীবনে ঘটেছিল ঠিক সেই ঘটনায়। দিনটা ছিল ১৯৮০ সালের ২৩ শে জুলাই। সলিল দত্ত পরিচালিত ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শুটিং চলছিল তখন টালিগঞ্জে। শুটিংয়ের দিন একটু অস্বস্তিতে ছিলেন মহানায়ক। কারণ সেই সময় সুপ্রিয়া দেবী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু তাঁর এই অস্বস্তি ক্যামেরার সামনে এক মুহূর্তের জন্যও ধরা পড়েনি। ফ্লোরে কেউ বুঝতেও পারেনি তার মধ্যে একটা অস্বস্তি চলছে।
ওই ছবিতে মহানায়কের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। দৃশ্য ছিল স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা। ফলে সংলাপ বলার সময় মাঝে মাঝে উত্তেজনা প্রকাশ করতে হচ্ছিল উত্তমকে। এইরকম একটা দৃশ্য গ্রহণের সময়েই বুকে ব্যথা হতে শুরু করে উত্তমের। নিজের অলক্ষ্যেই হাত চলে যাই বুকের বাঁ দিকে। কিন্তু ডায়লগ বলা এতোটুকু পরিবর্তন হয়নি তাঁর। একজন পেশাদার অভিনেতা কোন পর্যায়ে অভিনয় কে ভালবাসলে এইরকম একটা কষ্টদায়ক অবস্থার মধ্যেও নিজের সংলাপ সঠিকভাবে বলতে পারেন।
ঈশ্বর উত্তমের কথা শুনেছিলেন, কাজের মধ্যেই অজানার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন মহানায়ক

এই ঘটনার পর মাত্র একদিন বেঁচে ছিলেন তিনি। ২৪ শে জুলাই বেলভিউ নার্সিংহোম থেকে তার নিথর দেহ আনা হয় বাড়িতে। উত্তম কুমার এতদিন পরেও বাঙালির মননে বিরাজমান। তার সেই সুন্দর হাসি সেই সুপুরুষ চেহারা আজও আপামোর বাঙালিকে আকর্ষণ করে চলেছে। আর একজন শিল্পী যেটা চাই সেটা উত্তম বাবু পেয়েছিলেন। পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার সময়ও তিনি কাজের মধ্যেই ছিলেন।








