ভূমিধসে বিপর্যস্ত ওয়েনাড়ে আটকে বাংলার ২৪২ শ্রমিক, ফেরাতে তৎপর রাজ্য

আটকে থাকা শ্রমিকদের বেশির ভাগই আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বাসিন্দা বলা জানিয়েছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রবল বৃষ্টি এবং তার জেরে মারাত্মক ভূমিধস। বিপর্যস্ত কেরলের ওয়েনাড়। ইতিমিধ্যেই মৃতের সংখ্যাটা ৩০০ পেরিয়েছে। জলের নীচে ডুবে গিয়েছে চার-পাঁচটি গ্রাম। রাস্তা দিয়ে বইছে নদী। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। কেরল সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েনাড়ে বাংলার ২৪২ জন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। কীভাবে তাঁদের রাজ্যে ফেরানো যাবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নবান্নে।

বার বিধানসভায় রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৫৫ জন শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। বাকীদের সঙ্গেও শীঘ্রই যোগাযোগের চেষ্টা করা হবে। আপাতত তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য সরকার। আটকে থাকা শ্রমিকদের বেশির ভাগই আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বাসিন্দা বলা জানিয়েছেন মলয়।

প্রসঙ্গত, বাংলা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর কেরলে যান কাজ করতে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই যান শ্রমিক হিসাবে। বহু সংস্থাও তাঁদের নিয়ে যায়। আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহের কোনও ব্যবস্থা ছিল না প্রশাসনের কাছে। কিন্তু কোভিডের পর থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য জোগাড়ে সচেষ্ট রাজ্য সরকার। পরিযায়ী শ্রমিকদের চিকিৎসা বিমার জন্য চালু পোর্টালের মাধ্যমে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাই অন্তত ২৫৫ জন যে কেরলে আছেন তার হদিশ পেয়েছে রাজ্য।

লোকে বলে কেরল ঈশ্বরের আপন দেশ। কারণ, ভগবান নাকি কেরলকে খুব যত্ন করে সাজিয়েছেন! ধ্বংসস্তূপে পরিণত ওয়েনাড়। চেনা ছবিটাই বদলে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে চলছে উদ্ধারকাজ। সেনাবাহিনীর কর্মী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), কেরলের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী, রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবার কর্মী এবং সেখানের সাধারণ মানুষ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেরলের এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই সাংসদ সাকেত গোখলে এবং সুস্মিতা দেব যাবেন ওয়ানাড়ের পরিস্থিতি দেখতে। আজই তাঁরা কেরলের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এদিকে, লাগাতার বৃষ্টি এবং ধসের কারণে ওয়ানাড়ের একাধিক সেতু এবং রাস্তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে বিপদগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছতেই পারছে না উদ্ধারকারী দল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত