দুর্ঘটনায় জখম যুবককে আরজি করে রেফার করেছিল শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতাল। যুবককে তার বাড়ির লোকজন এনে ছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা আন্দোলন আর We Want Justic-এ ব্যাস্ত। তাই চিকিৎসা না পেয়ে আরজি করের বাইরে ৩ ঘণ্টা পড়েছিলেন জখম যুবক। যুবকের মা উদভ্রান্তের মত দোউড়াচ্ছিলেন আর জি কর হাসপাতালের কাউন্টার থেকে কাউন্টারে। কিন্তু এগিয়ে আসেননি কোন চিকিৎসক। কার্যত বিনা চিকিৎসায় ছটফট করতে করতে মায়ের চোখের সামনে মৃত্যু হল ছেলের!
নিহত যুবকের নাম বিক্রম ভট্টাচার্য। হুগলীর কোন্নগরের বাসিন্দা তিনি। ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান মৃত যুবকের মা। তিনি বলেন, “ছেলের পা থেকে ক্রমশ রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে। যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বার বার জিজ্ঞাসা করলাম কোনও চিকিৎসক নেই। এক ম্যাডাম বললেন, ব্যান্ডেজ করো, সেলাই করো। ডাক্তার শুধু পা-টা ব্যান্ডেজ করে দিলেন। অবিলম্বে চিকিৎসা দরকার ছিল। করলেন না কেউ। ছেলেটার শরীরটা চোখের সামনে সাদা হয়ে গেল। আউটডোরের একের পর এক টিকিট কাউন্টারে দৌড়লাম। কাউকে পেলাম না।”


নিহত যুবকের মা হাহাকার করে জানালেন, যারা ধর্ষণ খুন কাণ্ডের সুবিচার চেয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন না। যাঁদের জন্যে অকারনে মৃত্যু হচ্ছে নিরাপরাধ মানুষের, কোল খালি হচ্ছে মায়ের। সেইসব চিকিৎসকদের বিচার করবে কে?
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোরে কোন্নগর বেঙ্গল ফাইন মোড়ের কাছে রাজীব গান্ধী রোডে একটি ডাম্পার চাপা দিয়ে চলে যায় বিক্রম ভট্টাচার্য নামে বছর বাইশের এক যুবককে। বিবেক নগর দ্বারিক জঙ্গল বাই লেনে একটি বাড়িতে মা, দিদিমাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন ওই যুবক। গাড়ি চালাতেন। দুর্ঘটনায় তাঁর দুটি পা-ই গুরুতর জখম হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।








