ইচ্ছাকৃতভাবে অক্সিজেন বন্ধ করে ২২ রোগীর মৃত্যু? তুমুল চাঞ্চল্য যোগীরাজ্যে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইচ্ছাকৃতভাবে অক্সিজেন বন্ধ করে ২২ রোগীর মৃত্যু? তুমুল চাঞ্চল্য যোগীরাজ্যে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত করোনার মারণ কামড়ে কাবু ছিল দেশ। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে এলেও কিছুদিন আগে পর্যন্ত রোগী মৃত্যু মিছিল দেখে আতঙ্কে ছিল গোটা দেশের মানুষ। করোনার কঠিন সময়ে যে জিনিষটির সবথেকে অভাব দেখা যাচ্ছিল টা হল প্রানবায়ু অক্সিজেনের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অক্সিজেনের অভাবে একের পর এক মৃত্যুর শোকবার্তা ভেসে আসছিল। তবে ইচ্ছে করে হাসাপাতালের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে রোগীমৃত্যু এমন ঘটনা শোনা যায়নি। তবে এবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এল যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে।

আরও পড়ুনঃ এবার থেকে বাস ভাড়া ধার্য্য করবে বিশেষ কমিটি! নতুন সিদ্ধান্ত পরিবহন দপ্তরের

আগ্রার এক বেসরকারি হাসপাতালের মালিক তেমনই দাবি করলেন। জানালেন গত ২৭ শে মে সেখানে ইচ্ছে করে ৫ মিনিটের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যার জেরে প্রান যায় ২২ জন করোনা রোগীর। স্থানীয় প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও ইতিমধ্যেই ওই হাসপাতালে তালা ঝুলিয়েছে তারা। যদিও ইতিমধ্যেই এই অভিযোগে তোলপাড় গোটা দেশ। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে যোগী সরকার। কিন্তু কেন এমন অমানবিক পদক্ষেপ? এক ভাইরাল ভিডিও (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) টেপে ওই হাসপাতালের মালিক অরিঞ্জয় জৈনকে বলতে শোনা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে অক্সিজেনের হাহাকারের সময় হাসপাতালে একটি ‘ভুয়ো মহড়া’ করা হয়। অক্সিজেনের অভাবে কোন রোগীদের মৃত্যু হতে পারে বা কারা বেঁচে যেতে পারেন, তা দেখতেই নাকি ওই মহড়া।

ভিডিওটিতে অরিঞ্জয় জানাচ্ছেন ‘‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীও অক্সিজেন জোগাড় করতে পারছেন না। ফলে রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে হবে বলে নির্দেশ এসেছিল। রোগীদের পরিবারের লোকজনকে বোঝানো শুরু করি। কয়েক জন হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হলেও অনেকেই যেতে চাননি। তখন আমি বললাম, চলো একটা ভুয়ো মহড়া করি। কারা মরে আর কারা বেঁচে যান, তা দেখা যাবে। ২৭ এপ্রিল সকাল ৭টায় তা-ই করেছিলাম। কেউ জানেন না। ৫ মিনিটের জন্য হাসপাতালে অক্সিজেন বন্ধ করা হয়েছিল। ২২ জন এমন রোগীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে, যাঁরা মারা যেতে পারেন। ওঁদের দেহ নীল হয়ে যাচ্ছিল।’’ এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াতেই আগরার জেলাশাসক প্রভু এন সিংহ একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, ২৬-২৭ এপ্রিল ৭ জন আক্রান্তের মৃত্যু হলেও অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাননি।

ইচ্ছাকৃতভাবে অক্সিজেন বন্ধ করে ২২ রোগীর মৃত্যু? তুমুল চাঞ্চল্য যোগীরাজ্যে। তিনি লিখেছেন “(ওই দিন) অক্সিজেনের অভাবে আতঙ্ক তৈরি হলেও ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। ওই হাসপাতালে ২২ জনের মৃত্যুর খবর সত্যি নয়। তবে এ নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখব।” এদিকে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলগুলি এর জন্য শাসকদল বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর