নজরবন্দি ব্যুরোঃ বৃহস্পতিবার যখন রাশিয়া-এবং ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় বার শান্তি বৈঠক বসল তখন সবাই ভেবেছিল এবার বুঝি শেষ হবে এই মারণ যজ্ঞ। কিন্তু তা যে একেবারেই নয় সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। যত সময় এগিয়েছে ফের ইউক্রেনের উপর আক্রমনের ঝাঁজ বাড়িয়েছে মস্কো। তারই প্রভাব এবার ফুটবল মাঠে। রুশ হামলায় শেষ হয়েগেল ১৬ বছরের একটি তরতাজা প্রাণ।
আরও পড়ুনঃ Extreme Hair Fall: স্ট্রেসের কারণে অত্যাধিক চুল ঝরছে? কি করে ঠিক করবেন? জানুন।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? জানা গিয়েছে, অ্যাজভ সাগর লাগোয়া মারিউপলে সকাল থেকেই আকাশে ছেয়ে ছিল রুশ বায়ুসেনার বিমান। সেইসঙ্গে চারপাশ থেকে আসছিল প্রবল গুলির শব্দ। সেইসঙ্গে মাঝে মধ্যেই হচ্ছে কানফাটানো বিস্ফোরণ। এসবের মাঝেই নিজের বাড়ি সংলগ্ন একটি মাঠে ফুটবল খেলায় ব্যস্ত ছিলেন ইলিয়া। হটাৎ করেই একটি আগুনের গোলা এসে পড়ে তাদের ফুটবল মাঠে।
এতটাই তীব্রতার সাথে সেটি মাঠে পড়েছিল যে সকলে ছিটকে পড়েছিল একদিকে। ইলিয়া অন্যদিকে। তারপর কিছুক্ষন ধোঁয়া ও ধুলোতেই ঢেকে থাকে সমস্ত দিক। তবে ধীরে ধীরে চারদিক পরিষ্কার হতেই বদলে যায় মাঠের পরিস্থিতি। ততক্ষনে আশেপাশে থেকে ছুটে এসেছেন অনেকে। প্রথমেই দেখা যায় রক্তে ভেসে গিয়েছে গোটা মাঠ। চাপ চাপ রক্তে ভিজে যাচ্ছে ইলিয়ার গোটা শরীর। সেই ঘটনার কথা জানতে পেরেই তখনই মাঠে ছুটে আসেন ইলিয়ার বাবা শেরি।
তারপর বাকি আহতদের পাশাপাশি ইলিয়া কে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। বাকি কিশোরদের কে আলাদা কেবিনে আনা হলেও ইলিয়াকে আনা হয় অপারেশন টেবিলে। তখন বাইরে ছেলের সুস্থতা কামনা করছেন বাবা শেরি। এইভাবে চলে যায় অনেকটা সময়। তারপর ধীরে ধীরে অপারেশন রুম থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। শেষে তাদের মধ্যে একজন এসে শেরির হাত চেপে ধরলেন।
এবার ফুটবল মাঠে, চলে গেল তরতাজা প্রাণ

এতক্ষণে কী হয়ে গিয়েছে তা বুঝতে বাকি থাকেনা শেরির। এরপর তার সমানে আসে রক্তমাখা চাদরে ঢাকা ইলিয়ার দেহ। শেষপর্যন্ত ইলিয়ার মাথার কাছে চেয়ার টেনে নিয়ে একটা স্নেহের চুম্বন করলেন তিনি। তারপর ছেলের মাথার কাছেই অঝোরে কেঁদে চলেছেন শেরি। এই ঘটনাই নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।



