প্রকাশিত হল উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মেধা তালিকা। কার্যত খুশির হাওয়া চাকরিপ্রার্থী মহলে। গত ২৮ অগস্ট আপার প্রাইমারি নিয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল, চার সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে মেধা তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। ১৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে হবে শিক্ষক নিয়োগ। এখন প্রশ্ন একটাই। নিয়োগ হবে কবে?
২০১৫ সাল থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর পর নানান চড়াই উৎরাই পার করে চাকরির আশা দেখছেন প্রার্থীরা। হাইকোর্ট রায় দেওয়া পর নিয়োগে আর কোনও বাধা ছিল না। কিন্তু এই মামলা পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। যদিও পরে তা আবার ফিরে আসে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে।
গত ২৮ অগস্ট হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। সেখানেই মেধাতালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বলা হয় চার সপ্তাহের মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে। নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে রাজ্য সরকার। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ার ৩ দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে মেধা তালিকা। এবার নিয়োগের পালা।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মেধা তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপশি নির্দেশ দিয়েছিল নিয়োগ নিয়েও। গত ২৮ অগস্ট ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ২১ নভেম্বরের মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন কে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে ১৪০৫২ শূন্যপদে। সুতরাং হাতে রয়েছে মাত্র ২ মাস। এই ২ মাসেই যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে হবে কমিশন কে।
এদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ সম্পর্কে জানার পর এক মন্তব্যে জানিয়েছিলেন, পুজোর আগেই নিয়োগ শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই চেষ্টা কি মেধা তালিকা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে শুরু হল? এই প্রশ্ন এখন চাকরি প্রার্থীদের মনে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মেনে রাজ্য যেভাবে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগেই মেধা তালিকা প্রকাশ করল তাতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও জটিলতা হবে না বলে মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।



