ক্ষত-বিক্ষত দিঘা-মন্দারমণি, কবে ঘুরে দাঁড়াবে জানেনা কেউ।

ক্ষত-বিক্ষত দিঘা-মন্দারমণি, কবে ঘুরে দাঁড়াবে জানেনা কেউ।
ক্ষত-বিক্ষত দিঘা-মন্দারমণি, কবে ঘুরে দাঁড়াবে জানেনা কেউ।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্ষত-বিক্ষত দিঘা-মন্দারমণি, একপ্রকার জলের তলায় তলিয়েছে। বানভাসি অবস্থা মেদিনীপুরের একাধিক গ্রাম। ল্যান্ডফলের আগে থেকেই কার্যত ডুবতে শুরু করেছিলো দিঘা উপকূল, বাজার থেকে হোটেল আংশিক-সামগ্রিক ভেসে গিয়েছে তাজপুর-শংকরপুর।  কয়েকদিন আগে থেকেই সতর্কতা বার্তা ছিলো, জারি ছিলো একাধিক নির্দেশ। প্রস্তুত বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

আরও পড়ুনঃ ভরা কোটাল আর ইয়াস… হতাশা আর আতঙ্ক সাগরপাড় জুড়ে।

কিন্তু ঝড়ের মুখে আর জলের স্রোতের কাছে হেরেছে সকলেই। দুর্যোগ নেমে আসার আগেই উপকূল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বহু মানুষকে। গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টির। আজ সকালে ভয়ঙ্কর আকার নেয় তা। বাড়িঘর এক প্রকার জলের তলায়। এই জল কবে নামবে, নামলেও আগের জায়গায় ঘুরে দাঁড়াবে কবে পরিস্থিতি জানেন না কেউই।

একে লকডাউনে বন্ধ বাজার হাত। মধ্যবিত্তের ঘরে টান পড়ছে। তার মধ্যেই এই ঘুর্ণিঝড়। গতবছরের আমফানের ঘা এখনো সারেনি, সেই কাতা ঘায়েই ফের নোনা জল নিয়ে আছড়ে পড়লো ইয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী  বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়েছে ইয়াস-এর স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া। বালেশ্বর অতিক্রম করার সময় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় বয়েছে। তার মধ্যেই বেলা ১১ টা ৩৭ নাদাগ ভরা কোটালের জলোচ্ছাস সর্বোচ্চ হওয়ায় জলের তল বেড়েছে আরো অনেকটাই।

ক্ষত-বিক্ষত দিঘা-মন্দারমণি, প্রবল ঝড় থেকে দিঘাকে কিছুটা বাঁচিয়ে দেয় গার্ডওয়াল, সেখানের পাথরও উড়ে এসে পড়ছে রাস্তার ওপরে। এক কথায় লন্ডভন্ড মুখ্যমন্ত্রীর সাজানো ওল্ড দিঘা। অপরদিকে গার্ডওয়াল নেই মন্দারমণিতে, স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষতির আশঙ্কা ছিলো বেশি।  আজ সকাল থেকেই মন্দারমণির হোটেল গুলিতে জল ঢুকেছে, ভেঙ্গে গিয়েছে হোটেলের দরজা জানলা। রাস্তায় গলা জলে ডুবে আছে গাড়ি। একই অবস্থা তাজপুরে-দিঘায়।

এখনো প্রবল বিপর্যয় চলছে,জল ঢুকেছে আসে পাশের গ্রামে। সরান হচ্ছে বহু মানুষকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা থেকে সকালেই ৮টি অতিরিক্ত টিম গেছে দিঘার উদ্দেশ্যে। গত বছর থেকে করোনার জেরে একেই ভেঙ্গে আছে পর্যটন শিল্প। তার মধ্যে গতবারের আমফান এবং এবারের ইয়াস ভেঙ্গে দিয়ে যাচ্ছে ভেতরের শক্তি টুকুকে। তারা জানেন না কবে আবার ঠিক হবে পরিস্থিতি, আবার কবে ঘুরে দাঁড়াবে দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুর। খুলবে সামগ্রীর পসরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here