প্রধানমন্ত্রী কেন সরাসরি চিনের নাম মুখে নিচ্ছেন না! কি নেপথ্য কাহিনী? #Editorial

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): প্রধানমন্ত্রী কেন সরাসরি চিনের নাম মুখে নিচ্ছেন না! কি নেপথ্য কাহিনী? ১৫ই আগস্ট, লালকেল্লা থেকে জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে ছিল প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের দিকে। কারন চিনা আগ্রাসনের মুখে পড়া ভারতের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা তথা হুঁশিয়ারি দেবেন তিনি। কিন্তু সবাই কে হতাস করে সরাসরি চিন কে কিছুই বললেন না মোদি। ভাষণে ৩৫ বার উচ্চারণ করলেন আত্মনির্ভর ভারতের কথা। জানিয়ে দিলেন হানাদার দের মুখের মত জবাব দেওয়ার কথা, কিন্তু একবারের জন্যেও নাম নিলেন না তিনি।

আরও পড়ুনঃ ই ডি-র এই ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে, সোমবার গ্রেফতার হতে পারে রিয়া!

এই ইস্যুতে আজ তোপ দেগেছে কংগ্রেস। কারন লাদাখে চিনের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর থেকে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জাতির উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেও একবারো মুখে নাম নেননি চিনের। স্বাধীনতা দিবসের দিনেও তিনি একই পথে হেঁটেছেন। চিনের নাম একবারের জন্যেও মুখে আনেন নি। কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে তাহলে কি চিন কে ভয় পাচ্ছেন মোদি! এবার প্রশ্ন হল কেন চিনের নাম মুখে নিচ্ছেন না মোদি। চিনকে সরাসরি আক্রমণে না গিয়ে বার বার অন্য কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী! কি সেই নেপথ্য কাহিনী।

আমরা সবাই জানি চিনের সাথে হাতাহাতিতে প্রাণ গিয়েছে একাধিক ভারতীয় জওয়ানের। ভারতীয় ভুখণ্ড নিজেদের দখলে আনবে বলে শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে চিন। ১৫ জুন পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা সদস্য শহিদ এবং ৭৬ জন জখম হওয়ার পরে ভারতে চিনা পণ্য বয়কটের দাবি জোরালো হয়। দেশের একাধিক প্রান্তে চিনের জাতীয় পতাকা ও প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের ছবি পোড়ানোর পাশাপাশি চিনা পণ্য ব্যবহার বন্ধ করার দাবি ওঠে।  ভারত সরকার চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে সার্জিক্যালের যায়গায় ডিজিটাল স্ট্রাইক করে। সার্জিক্যাল না হোক ডিজিটাল স্ট্রাইক হয়েছে, তাহলে আর বাকি রইল কি! আসল কথা বলার আগে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিই। নরেন্দ্র মোদি এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন সফর করেছে ভারতের ইতিহাসে সার্বিকভাবেও সেই রেকর্ড কোন মুখ্যমন্ত্রীর বা প্রধানমন্ত্রীর নেই।

প্রধানমন্ত্রী কেন সরাসরি চিনের নাম মুখে নিচ্ছেন না। আসল কথা হল চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার কথা ঢাক পিটিয়ে প্রচার করা হলেও যেটা প্রচার করা হয়নি সেটা হল চিনা দ্রব্য আমদানির মাত্রার রেকর্ড বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা। চলতি বছরের এপ্রিল এবং মে মাসে ভারত চিন থেকে ৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্রব্য আমদানি করেছিল। সেখানে জুন এবং জুলাই মাসের আমদানির বহর দেখলে চোখ কপালে উঠবে। চিনের সাথে এত সমস্যা, চিনা পন্য বয়কট তথা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার আড়ালে জুন মাসে ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের পন্য আমদানি করে ভারত। সেই অঙ্ক জুলাই অর্থাৎ গত মাসে পৌঁছে যায় ৫.২ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ আত্মনির্ভরতার কথা মুখে বললেও বাস্তব চিত্র হল লাদাখে সমস্যা হওয়ার পর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চিন নির্ভরতা।

আমার এই লেখা পড়লে অনেকেই আমাকে চিনের দালাল ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করতে পারেন। তাই যারা গালমন্দ করবেন তাঁদের অনুরোধ করব তথ্য গুলো খতিয়ে দেখার। পাশাপাশি অন্য একটি ব্যাপারেও ভারত চিনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশে ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৮০% চিন থেকে আমদানি করা হয়। ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে এই কাঁচামাল সংগ্রহ করতে গেলে দ্বিগুন দাম গুনতে হয় বলেই এই ব্যবস্থা চলছে অনেকদিন ধরেই। এমন অবস্থা যে সাধারণ প্যারাশিটামলের মত ওষুধের কাঁচামালও আসে মূলত চিন থেকেই। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে ৩৫ আত্মনির্ভর ভারতের কথা বললেও কেন একবারও চিনের নাম সরাসরি মুখে নেননি সেটা বুঝতে অন্তত কংগ্রেস নেতাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত