ভারতের নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে—কেন এত ভরসা হর্ষিত রানার ওপর? নিন্দুকদের মতে, পছন্দের খেলোয়াড় বলেই হর্ষিত নিয়মিত সুযোগ পান। তবে এবার সরাসরি সেই জল্পনার জবাব দিলেন গম্ভীর। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ২০২৭ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় হর্ষিত রানা নিশ্চিতভাবেই থাকছেন।
গম্ভীরের কথায় বোঝা গেল, হর্ষিতকে দলে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ ক্রিকেটীয় কৌশল। ভারতীয় দলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সুষম bowling-allrounder-এর অভাব অনুভূত হচ্ছিল। গম্ভীর সেই ফাঁক পূরণ করতে চাইছেন হর্ষিতকে দিয়ে। তাই তাঁর বার্তা পরিষ্কার—হর্ষিত শুধুই একজন পেসার নন, ভারত দলের ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী তাঁকে তৈরি করা হচ্ছে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবেও।


কেন এত ‘পছন্দের’ হর্ষিত? গম্ভীর জানালেন আসল কারণ
গম্ভীর বলেন, “আমরা হর্ষিতকে তৈরি করছি, কারণ তার মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে যে সে বোলিং ও ব্যাটিং—দুটোতেই অবদান রাখতে পারবে। আমাদের এমন একজন খেলোয়াড় দরকার যে ৮ নম্বরে নেমে ম্যাচ পরিস্থিতি সামলাতে পারবে।” তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ভারতের তিনজন পেসার অপরিহার্য, আর সেই তালিকায় হর্ষিতের জন্য জায়গা রাখছেন তিনি।
পরিসংখ্যানও বলছে হর্ষিতের ধারাবাহিকতার গল্প। মাত্র ১১টি ওয়ানডেতে তাঁর ঝুলিতে ২০টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ নজর কাড়েন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪ উইকেট নিয়ে প্রমাণ করেন, বিদেশের মাঠেও তাঁর দক্ষতা সমান কার্যকর। তাই গম্ভীর কোনও বাড়তি প্রশংসা না করে শান্তভাবে বললেন—“যদি হর্ষিত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে উন্নতি করে, ভারত সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।”
এই সিরিজে হর্ষিতের পাশাপাশি অর্শদীপ সিং ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও নজর কেড়েছেন। তবে তিনজনেরই অভিজ্ঞতা কম হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও তীক্ষ্ণতা গম্ভীরকে আরও উৎসাহিত করেছে। তিনি জানান, “এই সিরিজে অর্শদীপ, প্রসিদ্ধ, হর্ষিত—সবাই খুব ভালো খেলেছে। এরা কিন্তু অভিজ্ঞ নয়। অথচ দারুণ বোলিং করেছে।”


এমন অবস্থায় দলের ভারসাম্য রক্ষা করতে একজন নির্ভরযোগ্য আট নম্বর ব্যাটার প্রয়োজন। আর সেখানে হর্ষিতের গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। চার ইনিংসে তাঁর মোট রান ৪১ হলেও অ্যাটাকিং লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে তিনি দলের প্রত্যাশা পূরণ করছেন বলেই মনে করেন কোচ।

বিশ্বকাপে ভারতের মূল শক্তি হবে পেস অ্যাটাক। আগামী দুই বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার গতি-উইকেট মাথায় রেখে গম্ভীর চান এমন একটি দলে বিনিয়োগ করতে, যেখানে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের থাকবে বহুমুখী দক্ষতা। বুমরাহ ফেরার পর এই পেস আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে—এ কথাও জানাতে ভুললেন না তিনি।
গম্ভীরের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সমালোচকদের কথায় কান না দিয়ে ভবিষ্যতের ভারত দল গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখেছেন এই তরুণ পেসারকে। ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় নাম হয়ে উঠবেন কি হর্ষিত রানা? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।








