রাজ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে? হাই কোর্টের প্রশ্নে চাপে সরকার

ছয় বছর পরও হয়নি রাজ্যজুড়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, হাই কোর্ট ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছ থেকে চাইল স্পষ্ট জবাব

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্নে ফের চাপে পড়ল রাজ্য সরকার। ছয় বছর পার হলেও রাজ্যজুড়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌমেন সেন ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিষয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “অস্থায়ী উপাচার্যের নেতৃত্বে আমরা কোনও নির্বাচন চাই না। এটি একপ্রকার রাজনৈতিক পদ।” তাঁর এই মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান বিচারপতি। পালটা প্রশ্ন করেন, “আপনি এটা কেমন করে বললেন?”

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিচালনা সমিতির পক্ষে হাই কোর্ট

শুধু ছাত্র সংসদ নির্বাচন নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন সমিতির উপর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ আরও উন্নত করতে পরিচালন সমিতিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের রাখতে হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলা উচিত।”

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ সময়ের উপাচার্য আছেন, সেগুলিতে যেন দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর যেসব জায়গায় নেই, সেক্ষেত্রে রাজ্য যেন নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ঢাল বানাচ্ছে রাজ্য?

রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে—অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তাই তাদের নেতৃত্বে নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই যুক্তি মানা যাবে না। রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

২০১৭-র পর আর হয়নি সর্বভারতীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন

উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। তারপর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কলেজে ভোট হলেও, রাজ্যজুড়ে আর হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু একাধিকবার বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন হবে।”

তবে নির্বাচনের আর কোনও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর আগেও চলতি বছরের মার্চ মাসে আদালত রাজ্যের কাছে হলফনামা চেয়েছিল। তখনও ২ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফল মেলেনি। এবার ফের ২ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিল আদালত।

শিক্ষার স্বাভাবিক ধারায় ফিরুক ছাত্র রাজনীতি

ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাত্র রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একদিকে ছাত্রদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের প্রাথমিক ধাপ। দীর্ঘদিন ধরে এই নির্বাচন বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠছে শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আদালতের হস্তক্ষেপে এবার হয়তো রাজ্যকে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেই হবে। সব চোখ এখন রাজ্যের জবাবের দিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন