নজরবন্দি ব্যুরো: নতুন বছর শুরু হতেই অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনকে ঘিরে দেশ জুড়ে ধর্মীয় ভাবাবেগ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।লোকসভা ভোটের আগে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এককাট্টা করতে বিজেপি রামমন্দিরকে তুরুপের তাস করবে বুঝতে পেরেও বিরোধীদের পাল্টা কৌশল কী হবে, তা নিয়ে এখনও অন্ধকারে ইন্ডিয়া জোট। আগামী ১৯ ডিসেম্বর বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-র বৈঠক বসছে। ইন্ডিয়ার শীর্ষনেতাদের বৈঠকে রামমন্দিরের প্রশ্নও আসবে বলে বিরোধী শিবির মনে করছে। কারণ রামমন্দিরের উদ্বোধনে বিরোধী দলের নেতানেত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
আরও পড়ুন: মমতার পরামর্শ ছাড়া INDIA জোটের সাফল্য অসম্ভব, কংগ্রেসকে সাইডলাইন করে বয়ান TMC সাংসদের



সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস বা অন্য দলের নেতারা অযোধ্যায় যাবেন কি না, সেই প্রশ্নও থাকছে। বৈঠকে আসন সমঝোতার পাশাপাশি বিরোধী শিবির কী কী কর্মসূচিকে সামনে রেখে লোকসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে যাবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। হাতে সময় বেশী নেই। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। ফলে ইন্ডিয়া জোটের মূল বিষয়গুলি ঠিক করে দ্রুত জনসভা শুরু করে দিতে হবে।শুধু মোদী সরকারের সমালোচনা করে গেলে হবে না। তার সঙ্গে ‘ইতিবাচক কর্মসূচি’-ও প্রয়োজন। বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে কী করবে, কী কী প্রকল্প নেবে, তা মানুষকে বোঝানো দরকার।
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী বিজেপির কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী না করে নিজেকে বাজি ধরে হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে জিতে লোকসভা নির্বাচনে নিজেই নিজের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। তাঁর বিপরীতে বিরোধী শিবির এখনও কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে না। কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ইন্ডিয়া জোটের মন্ত্র হবে, ‘ম্যাঁয় নহি, হম’ অর্থাৎ ‘আমি নই, আমরা’। ইন্ডিয়া বলবে, মোদীর বিরুদ্ধে “আমি নই, আমরা।” দিল্লিতে ইন্ডিয়া-র চতুর্থ বৈঠক বসছে। এর আগে তিনটি বৈঠকে প্রাথমিক যে রূপরেখা ঠিক হয়েছিল, তাতে অর্থনৈতিক অসাম্য, সামাজিক মেরুকরণ, রাজনৈতিক স্বৈরাচারের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বকে বিরোধীদের প্রচারের মূল সুর হিসেবে তুলে ধরা হবে বলে ঠিক হয়েছিল।
Election 2024: তুরুপের তাস রামমন্দির, পাল্টা কী কৌশল ইন্ডিয়ার?
রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র মূল মন্ত্রও ছিল এই সব বিষয়। একই সঙ্গে মনমোহন সরকারের ১০ বছরের রাজত্বের পরে মোদী সরকারের ১০ বছরের রাজত্বে সাধারণ মানুষের জীবনে কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে ধরা হবে। তবে তার সঙ্গে কিছু ইতিবাচক কর্মসূচি দরকার। কংগ্রেসের একটি সূত্রের বক্তব্য, “স্বাস্থ্য পরিষেবার অধিকার, শহরে রোজগার গ্যারান্টি যোজনা, গিগ কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা আইনের মতো বিষয় ভাবনাচিন্তার মধ্যে থাকবে।”












