ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী কী অভ্যাসে বদল আনতে হবে? জানতে পড়ুন গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ক্যানসারকে ঠেকাতে জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসে সঠিক পরিবর্তন আনুন; বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ক্যানসার। এই শব্দটি শুনলেই আমাদের গলার কাছে যেন এক ভারী অনুভূতি চলে আসে। এটি এখন মহামারির চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যানসার বর্তমানে পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ হিসেবে গণ্য হয়। প্রতি ৬ জনের মধ্যে ১ জন ক্যানসারের কারণে প্রাণ হারাচ্ছে। এই পরিসংখ্যানটি ভয়াবহ হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ সতর্কতা অবলম্বন করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভাস এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি সম্ভব।

তাহলে আসুন, দেখে নিই দৈনন্দিন জীবনে কী কী পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

১. ধূমপান ও মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ:

ধূমপান এবং মদ্যপান ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। গলা, মুখগহ্বর, ফুসফুস সহ অন্তত ১৪ প্রকার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এই অভ্যাসগুলি। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) অনুসারে, কিছু বছর ধূমপান ত্যাগ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই, ধূমপান এবং মদ্যপান পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। নেশা ছাড়াতে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ:

অতিরিক্ত ওজন বা মোটা হওয়া ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে, শরীরের মেদ বাড়লে ব্রেস্ট, প্রোস্টেট এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এজন্য স্বাস্থ্যকর খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা প্রয়োজন।

৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:

ক্যানসার প্রতিরোধে ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে শাকসবজি, ফল, গোটাশস্য, ডাল, বাদাম এবং বীজগুলি আমাদের ডায়েটে থাকা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৭% পর্যন্ত কমাতে পারে।

৪. প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকা:

সময় বাঁচাতে আমরা অনেকেই ‘রেডি টু ইট’ প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকি। তবে এই ধরনের খাবারে কৃত্রিম চিনি এবং সোডিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এগুলির ফলে শুধু ওজন বাড়ে, তাতে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই যতটা সম্ভব প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং প্রাকৃতিক খাবার খেতে চেষ্টা করুন।

৫. শারীরিকভাবে সচল থাকা:

নিয়মিত শরীরচর্চা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে খুবই কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি ৩০-৫০ শতাংশ কমে যায়। বিশেষত, ব্রেস্ট, কোলন এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। হাঁটা, যোগা, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়ামগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।

ক্যানসারকে পরাজিত করতে জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। সঠিক অভ্যাসগুলি গড়ে তুললে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই আজ থেকেই এই পরিবর্তনগুলি নিজের জীবনে অভ্যস্ত করুন এবং সুস্থ থাকুন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত