আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গে কলকাতাসহ সাত জেলায় কমলা সতর্কতা এবং আরও তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা বেশ সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই কারণেই এই সাত জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাঁকুড়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এই জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই তিন জেলার জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কলকাতার আবহাওয়া নিয়ে জানানো হয়েছে, দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে। দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বাইরে বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পাশাপাশি খোলা জায়গায় বজ্রপাতের সময় না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পাহাড়ের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ে মাঝারি থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা। কালিম্পংয়ে দিনভর মেঘলা আকাশের সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি রাস্তায় ধসের আশঙ্কা থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার-এ সারাদিনই মেঘলা আকাশ থাকবে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমও অনুভূত হতে পারে। তবে সময়ে সময়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনো, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






